• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ১২ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ১১:৫৪
  • আর্কাইভ

৪ ঠা ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত দিবস

৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসে ০৪, ২০১৭

বিশেষ সংবাদদাতা-

আজ ৪ ঠা ডিসেম্বর। লক্ষ্মীপুর হানাদার মুক্ত করার ঐতিহাসিক স্মরনীয় দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনারা ও এ দেশীয় দোসর রাজাকার আল-বদরের সহায়তায় লক্ষ্মীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ধর্ষণসহ শত-শত নিরীহ জন-সাধারণকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তখন লক্ষ্মীপুরের দামাল ছেলেরা ১৭ বার সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে হানাদারদের প্রতিহত করে আজকের ঐতিহাসিক এই দিনে লক্ষ্মীপুরকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট সুত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন ৯ মাসে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে মুক্তি বাহিনীর ১৭টি সম্মুখযুদ্ধসহ ২৯ টি দুঃসাহসিক অভিযান চালায় মুক্তিযোদ্ধারা। এসব যুদ্ধে সৈয়দ আবদুল আলীম বাসু, মুনছুর আহমদ, আবু ছায়েদ, আবুল খায়ের, নজরুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, আতিক, মোস্তাফিজুর রহমান, আলী আহাম্মদ (ইপিআর) সহ ৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

এ ছাড়াও পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে আরো জানা অজানা অসংখ্য নারী-পুরুষ শহীদ হয় এই জেলায়। ডিসেম্বরের এ দিনে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হায়দার চৌধুরীর এবং সুবেদার প্রয়াত আবদুল মতিনের নেতৃত্বে দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার, দক্ষিণ হামছাদী, শাখারী পাড়ার মিঠানীয়া খালপাড়সহ বাগবাড়ীস্থ রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে লক্ষ্মীপুরকে হানাদার মুক্ত করেন এবং প্রায় দেড় শতাধিক রাজাকারকে আটক করে ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেন। পরে প্রকাশ্যে লক্ষ্মীপুর শহরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পাক হানাদার ও এই দেশীয় রাজাকারদের এ সব নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজও নীরব সাক্ষী হয়ে আছে শহরের বাগবাড়ীস’ গণকবর, টর্চারসেল, মাদাম ব্রীজ বধ্যভুমি, পিয়ারাপুর ব্রীজ, বাসু বাজার গণকবর, চন্দ্রগঞ্জ, রসুলগঞ্জ ও আবদুল্যাপুর এবং রামগঞ্জ থানা সংলগ্ন বধ্যভূমি।

সদর উপজেলার দালাল বাজারের শহীদ আলী আজমের ভাই শাহজাহান বলেন, তাদের মতো যেসব পরিবারের লোকজনদেরকে রাজাকার আল-বদররা অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে, সেসব পরিবারের দাবী যেসব যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়েছে তাদের মত অন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বাবু কাজল কান্তি দাস বলেন, মহান স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও এ সব হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়ায় আজও সে স্মৃতি মনে করে প্রিয়জনদের হারানোর ঘটনায় শিহরে উঠেন অনেকে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজাকােেদর বিচার শুরু করে এবং র্শীষ স্থানীয় রাজাকারদের বিচার করে ফাঁসির রায় কার্যকর করায় বাংলাদেশ কলঙ্ক মুক্ত হচ্ছে। আমরা আশা করি স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগে সকল মানবতারিরোধী আপরাধীদের বিচার করে ফাঁসির রায় কার্যকর করে বাংলাদেশকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধীমুক্ত দেশ উপহার দিবে বর্তমান সরকার। তিনি আরো বলেন, হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com