• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | বিকাল ৫:৩৫
  • আর্কাইভ

সৌন্দর্যের নীলাভূমি সেন্টমার্টিন-ছেঁড়াদ্বীপে রামগতি উপজেলা পরিষদ’র আনন্দ ভ্রমণ সম্পন্ন

২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জানু ২৯, ২০১৮

ছেঁড়াদ্বীপ থেকে ফিরে কাজী মাকছুদুল হক:

কর্মব্যস্ত জীবনে সকাল-সন্ধ্যা অফিস বা কাজ করে দিনশেষে ক্লান্তি এসে ভর করে একটু বিশ্রাম তো সবারই দরকার। দরকার বিনোদন কিংবা ভ্রমণের। লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন এর জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও তাদের ফ্যামিলির সদস্যদের নিয়ে বিনোদন এবং ভ্রমণ দুটোই সম্পন্ন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫শে জানুয়ারি)  বিকেলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজগর আলীর তত্ত্বাবধানে পৌর মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজুসহ উপজেলার বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রিজার্ভ এসি বাস যোগে রাত ২ টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছেন, সেখানে মোটেল লাবণীতে রাত্রি যাপন করেন। এর আগে চট্টগ্রামে রাতের খাবার খান তাঁরা।

শুক্রবার  সকাল সাড়ে ৬ টা মোটেল লাবনী থেকে বের হয়ে ওইদিন সকাল ৯ টা টেকনাফ গিয়ে লঞ্চে উঠেন তাঁরা এবং লঞ্চেই নাস্তা করেন।

পরে দুপুরে গিয়ে সেন্টমার্টিনে পৌঁছে বাগান বাড়ীতে উঠেন সেখানে তারা জুমার নামাজ আদায় করে দুপুরের খাওয়া খান। ওইদিন বিকেলে সাগর নেমে,সাইকেল চালিয়ে,একে অপরকে জোরপূর্বক সাগরে নামিয়ে ব্যাপক আনন্দ করে, সন্ধ্যার পরে যে যারমত করে ঘরাঘরি করে রাত ১০টা বারবিকিউ ও পরটা খেয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে র‍্যাফেল ড্রতে অংশগ্রহণ করেন সবাই।

শনিবার সকালের নাস্তা খেয়ে সবাই ট্রলারে করে সাড়ে নয়টা ছেঁড়াদ্বীপে গিয়ে পুনরায় আনন্দে মেতে উঠেন , ছেঁড়া দ্বীপ হলো বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণের সর্বশেষ বিন্দু। দক্ষিণ দিকে এর পরে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখন্ড নেই। সেন্ট মার্টিন থেকে বিচ্ছিন্ন ১০০ থেকে ৫০০ বর্গমিটার আয়তনবিশিষ্ট কয়েকটি দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘ছেঁড়াদিয়া’ বা ‘সিরাদিয়া’বলা হয়ে থাকে। ছেঁড়া অর্থ বিচ্ছিন্ন বা আলাদা, আর মূল দ্বীপ-ভূখন্ড থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন বলেই এ দ্বীপপুঞ্জের নাম ছেঁড়া দ্বীপ।

প্রবাল দ্বীপে ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপ প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। দক্ষিণের এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক পাথর। দ্বীপের প্রায় অর্ধেকই জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানিতে ডুবে যায়। এই এলাকাটি সরকারের ঘোষিত একটি ‘পরিবেশ-প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’। এরকম এলাকায় ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানায় জমি কেনা, এমনকি কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ আইনত নিষিদ্ধ।

সাগরের নীল জল দেশের অন্য জেলা থেকে পৃথক করে দিয়েছে সেন্টমার্টিনকে। আবার সেন্টমার্টিনের ভূখণ্ড থেকেও বিচ্ছিন্ন ছেঁড়া দ্বীপ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সাগরের মাঝে ভাসমান একটি বন। কাছে গেলেই দেখা মেলে প্রবাল পাথর আর বালু ঢেউ খেলছে ছেঁড়া দ্বীপে।

বঙ্গোপসাগরের নীল জল আগত পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে প্রবাল পাথরের ওপর। মুহুর্তেই ঢেউ এসে পরিষ্কার করে দিচ্ছে দ্বীপের বিচ। চিকচিক বালুর ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে উপভোগ করেন বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের খেলা।

সেন্টমার্টিনসহ ছেঁড়া দ্বীপের চারপাশেই রয়েছে কেয়া গাছের বিস্তরণ। কেয়া গাছের শিকড় একটি আরেকটিকে যেভাবে জড়িয়ে ধরে আছে, এই কেয়া গাছ ঝড় জলোচ্ছ্বাসকে কিছুটা হলেও দ্বীপবাসীকে ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা করে। তাই দ্বীপবাসীর জীবন রক্ষাকারী হিসেবেও কাজ করছে কেয়া গাছ।

ছেঁড়া দ্বীপের আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে জোয়ারের আগে যেখানে পাথরের উপর দিয়ে পায়ে হেটে যেতে পারছে, জোয়ারের পরে সেখান দিয়েই বোট (নৌকা)দিয়ে যেতে হয়।আরেকটা মজার বিষয় হচ্ছে পানির নিচে পাথরের উপর মনে হয় যেন শামুক বসে আছে,অথচ দেখতে শামুকের মত হলেও তাহা শামুক নহে ওটা একধরণের উদ্ভিদ।

তবে ব্যাপক আনন্দ করে সেন্টমার্টিন আসার সময় মৃদু বাতাস প্রবাহিত হওয়ার ফলে পানির ঢেউ কিছুটা বেড়ে যাওয়া ২/৩ জন ব্যতীত সবাই আতংকিত হয়ে পড়েন এবং পানির ছিটকা সাবাই ভিজে যায়। কিন্তু সেন্টমার্টিনে নামার পরেই যেন ছেঁড়া দ্বীপের আনন্দে সব চাপা পড়ে যায় ,তারা যেন ভুলেই গেছে একটু আগে সবাই কতইনা আতংকগ্রস্ত ছিলেন।

ঐদিন দুপুরের খাওয়া খেয়ে বিকেল ৩টার লঞ্চে সন্ধ্যা টেকনাফ পৌঁছে রাতেই লক্ষ্মীপুর এসে পৌঁছেন। রবিবার সকালে সবাই নিজ নিজ অফিসে যথারীতি দৈনন্দিন কাজে জড়িয়ে পড়েন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com