• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | দুপুর ২:১৬
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল আলিম মাদ্রাসার চেয়ারম্যানকে উকিল নোটিশ

১২:৪১ পূর্বাহ্ণ, ডিসে ১৯, ২০২০

লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল আলিম মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মাওলানা জসিম উদ্দিনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য লক্ষ্মীপুর আইডিয়াল আলিম মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মাওলানা জসিম উদ্দিনকে উকিল নোটিশ করেছে ওই মাদ্রাসা ভবনের মালিক এম ওবায়দুর রহমান খান। গত ৬ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবি মোহাম্মদ আবু তৈয়ুব পাওনাদার ওবায়দুর রহমানের পক্ষে নোটিশ প্রদান করেন।

এতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য বলা হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

পাওনাদার ওবায়দুর রহমান জানান, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক সংলগ্ন পৌর ১০ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ‘লক্ষ্মীপুর টাওয়ার’ নামীয় একটি বহুতল ভবনের মালিক তিনি। ২০১১ সালে ওই ভবনটি ‘ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ক্যাডেট মাদ্রাসা চালু করার জন্য ভাড়া নেয়। ওই ফাউন্ডেশনের শিক্ষা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মাওলানা জসিম উদ্দিন।

আবাসিক ভবন হিসেবে নির্মাণাধীন ভবনটির আভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ভেঙে অনুমুতি না নিয়ে নকশা পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অবকাঠামো তৈরী করতে গিয়ে ক্রিয়েটিভের প্রকল্প পরিচালকের পরামর্শে বাড়িটি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ৬৫ লাখ টাকার লোন নিতে হয়েছে ভবন মালিককে।

এছাড়া ক্রিয়েটিভ কর্তৃক প্রদত্ত নকশার আলোকে ভবনের অবকাঠামো তৈরীতে অতিরিক্ত এক কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ওই অর্থ ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশন শর্ত সাপেক্ষে বাকিতে পরিশোধের সিদ্ধান্তে চুক্তি করে।

তিনি আরও জানান, ২০১২ সালের ১লা জানুয়ারী ভবনটিতে ক্রিয়েটিভ ক্যাডেট মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে ভবন ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী অবকাঠামো পুনঃনির্মাণের ব্যয় পরিশোধের কথা উল্লেখ থাকলেও সেগুলো পরিশোধ করেনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এদিকে প্রতিষ্ঠান চালুর ১৩ মাসের মাথায় মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ভবন মালিকের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক। মাদ্রাসার যাবতীয় মালামাল বিক্রি করে পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলে মাওলানা জসিম উদ্দিন ৬৫ লাখ টাকা দরে দু’টি শিক্ষার্থী পরিবহসহ উক্ত প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত মালামাল ক্রয় করেন। তবে নগদ অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভবন মালিককে মাদ্রাসার অংশীদার করে ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশনের সাথে ভবন মালিকের পাওনা অর্থ সমন্বয় করান।

এর প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত চুক্তিও হয়। পরবর্তীতে সেখানে আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসা নামে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করে মাওলানা জসিম উদ্দিন ও ভবন মালিক ওবায়দুর রহমান। ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন জসিম উদ্দিনকে। পরে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার বাবদ সাড়ে ৩২ লাখ টাকা এবং জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে পাওনা ২২ লাখ ৬২ হাজার টাকাসহ মোট ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশনের সাথে সমন্বয় করে আইডিয়াল দাখিল মাদ্রাসার জন্য ক্রয়কৃত যাবতীয় মালামাল জসিমের তত্ত্বাবধানে দেন তিনি।

কিন্তু প্রতিষ্ঠান শুরু পর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত মাদ্রাসার অংশীদার ওবায়দুর রহমানকে আয়-ব্যয়ের কোন হিসেব না দিয়ে মাওলানা জসিম গড়িমসি করেন। ফলে মাদ্রাসার অংশীদার ও ভবন মালিক ওবায়দুর রহমান উক্ত পাওনা আদায়ের জন্য পাওনাদার জসিম উদ্দিকে উকিল নোটিশ করেন।

ভূক্তভোগী ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর টাওয়ার’ নামের ৫ তলা ভবনটি আমি আবাসিক ভবন হিসেবে নির্মাণ করতেছিলাম। কিন্তু মাওলানা জসিমের পরামর্শে সেটির নকশা পরিবর্তন এবং অবকাঠামো ভাঙতে হয়েছে। ক্রিয়েটিভের নকশা অনুযায়ী ভবনের কাজ সমাপ্ত করতে গিয়ে আমাকে ব্যাংক ঋণ নিতে হয়েছে।

ক্রিয়েটিভ ক্যাডেট মাদ্রাসা চালুর কয়েক মাসের মাথায় সেটি স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ক্রিয়েটিভ ফাউন্ডেশনের সাথে আমার যে চুক্তি হয়েছে- সেটি ভঙ্গ হওয়ায় আমি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। পুনরায় জসিমের পরামর্শে পুনরায় ওই ভবনে ভিন্ন নামে মাদ্রাসা কার্যক্রম চালু করতে গিয়ে মালামালসহ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অংশীদারিত্ব কিনে তার হাতে দায়িত্ব দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। ওই মালামাল এবং মাদ্রাসা পরিচালনা করে গত ৭ বছর ধরে জসিম লাখ লাখ টাকা আয় করলেও আমাকে কোন হিসাব-নিকাশ না দিয়ে সে এককভাবে আত্মসাৎ করেছে।

অন্যদিকে কয়েক বছর থেকে ব্যাংক ঋণের বোঝা ভারী হয়ে আমার ভবন নিলামে দিয়েছে ব্যাংক। পরে বসত বাড়ি বিক্রি করে আমি ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করি। এসব করতে গিয়ে আমি চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে মানবেতর জীবন পার করছি। অবশেষে উল্লেখিত পাওনা টাকা আদায়ের জন্য উকিল নোটিশ করি। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে যদি পাওনা পরিশোধ না করে তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নেব।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাওলানা জসিম উদ্দিন পাওনা টাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার সাথে ওবায়দুর রহমানের সাথে এ ধরণের কোন লেনদেন নেই। ৫৫ লাখ টাকা পাওনার বিষয়টি ভিত্তিহীন। তিনি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। তিনি যেহেতু আইনী প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন, তাই আমিও আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com