• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৬:২১
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ২৪ লাখ টাকার মালামাল উধাও !

২:০৩ অপরাহ্ণ, নভে ২৭, ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি- লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ২৪ লাখ টাকার মালামাল উধাও হয়ে গেছে। গত তিন বছর থেকে লক্ষ্মীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের ২৪ লাখ টাকার মুল্যবান এ মালামালের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানা গেছে জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ।

বিপুল পরিমাণ টাকার এই মালামাল কোথায়, কারা নিল এবং ওই মালামাল কার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে সে ব্যাপারে দায়িত্ব প্রাপ্ত কেউ মুখ খুলতে রাজি নয় । ফলে এ ঘটনা জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কাজল কান্তি দাস অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করলেও উক্ত ডায়রীর কপি এমনকি এর তারিখ ও নাম্বার পর্যন্ত জানাতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বেশ কিছু মুল্যবান মালামাল খোয়া যাওয়ার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করার কথা স্বীকার করে বলেন পুলিশি তদন্ত শেষে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন।

লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ওসি লোকমান হোসেন তার থানায় মুক্তিযোদ্ধাদের মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রী করার কথা স্বীকার করলেও বিস্তরিত আর কিছু জানাতে রাজি হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মাষ্টার জানান, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য গত তিন বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা মুল্যের আসবাবপত্র, কম্পিউটার সহ ২৫ ধরনের মালামাল সরবরাহ করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের কাজ চলমান থাকায় অধিকাংশ মালামাল একটি কক্ষে মজুদ করে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে জেলা কমান্ডার আনোয়ারুল হক মাষ্টার অসুস্থ হয়ে পড়লে মালামাল গুলো আর স্থাপন করা হয়নি। গত কয়েক মাস আগে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে ডেপুটি কমান্ডার কাজল কান্তি দাস ভারপ্রাপ্ত কমান্ডারের দায়িত্ব নেন। তিনিও এই মালামাল গুলো স্থাপনের উদ্যোগ নেয়নি। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় গত মাসে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বভার গ্রহন করতে গেলে মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এতেই সবার মাঝে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

এ দিকে জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কাজল কান্তি দাস জানান, সব মাল খোয়া যায়নি। আসবাব পত্র কিছু রয়েছে। তবে কম্পিউটার ল্যাপটপ সহ অনেক মুল্যবান মালামাল খোয়া গেছে। অপর ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবদীন জানান, যে বা যারাই মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মালামাল লুটে নিয়েছে তাদেরকে কোন ভাবেই ক্ষমা করা যাবেনা। তাদের আইনের আওতায় নিতে হবে। দায়িত্ব প্রাপ্তদেরই এই দায় অবশ্যই নিতে হবে।

সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার মনা বাকশাল জানান, মালামাল কে নিয়েছে কারা নিয়েছে তা আমাদের জানা আছে। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এ দিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ূন কবির তোফায়েল জানান, বিগত কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে কোন কাজ না করে তারা শুধু লুটপাট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। জেলার ১৭শ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সাথে বেঈমানী করে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ ও বরাদ্ধ লুটপাট করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সরকারি নকশা পাল্টিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে। এ ক্ষেত্রে তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত অমান্য করেছে। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দোকান ঘরের অগ্রীম ভাড়া নিয়ে ও মাসিক ভাড়া নিয়ে কোটি টাকা আতœসাৎ, লুট করেছে। জেলা মুজিব বাহিনীর অন্যতম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ সামছুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তালাবদ্ধ কক্ষে ছিল মালামাল। তালা, দরজা সবই ঠিক আছে তাহলে মালামাল গেল কই। কারা নিয়েছে কিভাবে নিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। দায়িত্বশীলদেরই এই মালামালের দায় নিতে হবে। এ সম্পদ কারো একার নয় জেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের। তাই এই সম্পদ উদ্ধারে কোন ছাড় দেওয়া যাবেনা।

মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান জানান, থানায় ডায়রি হয়েছে, তদন্ত হবে। কয়েকদির পরে তা ছাপা পড়ে যাবে। সম্পদ উদ্ধার হবেনা এমন সুযোগ দেওয়া যবেনা। তিনি নিজে বাদী হয়ে সহসা দায়িত্ব প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আদালতে মামলা করবেন। এ দিকে সাবেক জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ূন কবির তোফায়েলের নেতৃত্বে জেলা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম,সাবেক উপজেলা কমান্ডার বশির মাষ্টার, ডেপুটি কমান্ডার সামছুদ্দিন পাটওয়ারী, গত ১৯ নভেম্বর জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম এর সাথে স্বাক্ষাৎ করে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এর অনিয়ম, সাবেক কমিটির লুটপাট ও মালামাল এর বিষয় অবহিত করে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।

এ দিকে জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগম সম্প্রতি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবনে মুক্তিযোদ্ধা অফিসটি তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com