• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | বিকাল ৫:৩৬
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে করোনা টিকা কেন্দ্রে উপচে-পড়া ভীড়, হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ

১১:২৬ অপরাহ্ণ, আগ ১০, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাঁড়া জেগেছে। টিকা নিতে আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকেই টিকাদান কেন্দ্রগুলোকে ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্ধ কম থাকায় অনেক টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা প্রত্যাশীরা ফিরে যাচ্ছেন।

তবে টিকার জন্য অনলাইনে নিবন্ধনকারীদের মোবাইল ফোনে মাসেজ না আসা পর্যন্ত টিকাকেন্দ্রে না গিয়ে ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
মঙ্গলবার (১০ আগষ্ট) সকালে স্বাস্থ্যবিভাগের অফিসিয়াল ফেজবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, টিকাদান কেন্দ্রে লোকজনের ভীড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকে। গাদাগাদি করে এবং মুখে নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক না ব্যবহার করে অনেককে টিকাকেন্দ্রে লাইন ধরেতে দেখা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, ‘টিকা গ্রহীতাদের আনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর মোবাইলে টিকা গ্রহণের ম্যাসেজ গেলে ঢিকা প্রদান করা হবে। ম্যাসেজ প্রদান ব্যতিত কাউকে টিকা প্রদান করা হবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলার এবং জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে করোনার টিকা প্রদান করা হচ্ছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জেলাতে বর্তমানে অধিকাংশ লোক টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সে মোতাবেক যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিভাগ সিরিয়ালের ভিত্তিতে মোবাইলে টিকা গ্রহণের ম্যাসেজ প্রদান করেন। তাই মেসেজ পেতে দেরি হলে চিন্তার কোন কারণ নেই। যথাসময়ে মোবাইলে টিকা গ্রহণের জন্য ম্যাসেজ প্রেরণ করা হবে।’
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে সেখানে টিকা প্রতাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকে ঘন্টার পর ঘণ্টা শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী মূখে মাস্ক পরেনি কেউ কেউ। এ সময় টিকা প্রদানে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের হিমশিম খেতেও দেখা গেছে।

এদিন সদর উপজেলা দালালবাজার ইউনিয়নের খন্দকারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হট্রগোল বাঁধে। সকাল সাড়ে ৯ টা এবং বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বেশ কয়েকজন টিকাগ্রহীতাকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ উঠে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহেলের বিরুদ্ধে। এছাড়া ওই কেন্দ্র থেকে অনেককে টিকা না নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। কেন্দ্রে আসা মো. আজগর আলী ও আব্বাছ উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে লোকজনের উপচেপড়া ভীড় থাকায় হট্রগোল দেখা দেয়।
এতে ইউপি চেয়ারম্যান কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে। ফলে অনেকে টিকা না নিয়ে ফেরৎ গেছেন।

দালাল বাজার ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সোহলে বলেন, লোকজনের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় হট্রগোল শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি। ওই কেন্দ্রে কয়েক হাজার টিকা গ্রহীতা উপস্থিত হলেও দুইশ’ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ৭ আগষ্ট গণটিকার প্রথম দিনেও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পর্যায়েও টিকাকেন্দ্র গুলোতে লোকজনের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো। কিন্তু চাহিদার তুলনায় টিকার পরিমাণ কম থাকায় অনেকে টিকা নিতে পারেন নি। অনলাইনে নিবন্ধন থাকার পরেও বয়স ভিত্তিক ‘টিকিট’ সিস্টেমের মাধ্যমে ওইদিন বেশ কিছু কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান টিকা গ্রহীতারা।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা সিভিল ডা. আব্দুল গাফফার বলেন, চাহিদা আছে, কিন্তু সে হিসেবে টিকার জোগান কম। কিন্তু পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। যারা নিবন্ধন করেছেন তারা ম্যাসেজ না পেলেও টিকা কেন্দ্রে গিয়ে উপস্থিত হচ্ছে। এতে বেশি লোকজন একসাথে জড়ো হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ফেসবুকে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, মানুষ যাতে একটু ধৈর্য্য ধরে।

তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০ লাখ ডোজ টিকার প্রয়োজন। এ পর্যন্ত দেড় লাখ ডোজ সম্পন্ন হয়েছে। এ মুহুর্তে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে এবং জেলাতে একটি টিকাদান কেন্দ্র চালু রয়েছে। টিকার সরবরাহ বেশি হলে এলাকায় এলাকায় গণটিকা কেন্দ্র চালু করা হবে।
Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com