• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | সন্ধ্যা ৬:৩৫
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে লোনের কিস্তি দিতে না পারায় রাতভর আটক, উদ্ধার করলো পুলিশ

৪:৩৫ অপরাহ্ণ, আগ ১৬, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জে এক দিনমজুরকে রাতভর আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি ঋণদান প্রতিষ্ঠানের লোকেরা আবদুল করিম (৩৫) নামের চা দোকানের ওই কর্মচারীকে রবিবার (১৫ আগষ্ট) রাতভর আটক রাখে।

পরদিন পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সাথে ঋণদান সমিতির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পারভেজ নামে এক ব্যক্তিকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আবদুল করিম ভবানীগঞ্জ গ্রামের সাড়া বাড়ির মৃত নুর আলমের পুত্র এবং অভিযুক্ত পারভেজ একই বাড়ির তসলিমের পুত্র।

সোমবার দুপুরে এ তথ্য জানান ভূক্তভোগী আবদুল করিমের স্ত্রী রৌশন আক্তার।

তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ভবানীগঞ্জ বাজারের আল-আকসা সঞ্চয় ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সুদের উপর সাপ্তাহিক কিস্তিতে পরিশোধ সাপেক্ষে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিই। শুরুতে তিন কিস্তির মাধ্যমে সাড়ে ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করি। করোনাকালীন সময়ে লকডাউনের কারণে আমাদের সংসারে অভাব অনটন দেখা দিলে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হই। এরই মধ্যে কিস্তির টাকার জন্য চাপ দেয় পারভেজ।

রৌশন আক্তার জানান, রবিবার রাতে পারভেজ তার স্বামী আবদুল করিমকে ভাবানীগঞ্জ বাজারের মধ্যে থাকা তার অফিসে ডেকে নেয়। পরে তাকে অফিসের একটি কক্ষে রাতভর আটক রাখে। বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন। পারভেজ কোনভাবে লোনের পুরো টাকা পরিশোধ ব্যতীত তার স্বামীকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উপায়ন্তর না দেখে সোমবার সকালে তিনি বিষয়টি ৯৯৯’এ কল দিয়ে পুলিশকে জানায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর থানার পুলিশ সদসরা গিয়ে বন্দী কক্ষ থেকে আবদুল করিমকে উদ্ধার করে এবং সমিতির পরিচালক পারভেজকে থানায় নিয়ে যায়।

রৌশন আক্তার বলেন, আমার তিন সন্তান। স্বামী চা দোকানের কর্মচারী। অভাবের মধ্যে দিয়ে কোনমতে দিন পার করছি। কার উপর আবার করোনার লকডাউন ছিলো। সবমিলিয়ে সংসারের অবস্থা একেবারে করুণ। এর ভিতরে আমার স্বামীকে আটক রেখে রাতভর মানষিক নির্যাতন করেছে পারভেজ।

এ ব্যাপারে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর নবী বলেন, ৯৯৯’এ দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে আবদুর রহমানকে একটি বন্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। সে একটি সমিতি থেকে টাকা লোন নিয়ে সেগুলো পরিশোধ না করায় তাকে আটক রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। সমিতির পরিচালক পারভেজকেও থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি মিমাংস্যা করা হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com