• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ৩রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | সকাল ৮:২৫
  • আর্কাইভ

রামগতিতে কলেজছাত্রী অত্মহত্যার ঘটনায় প্রেমিক পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

৬:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টে ০২, ২০১৯

প্রবাহ রিপোর্ট : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান নাফিজার আত্মহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায় বিচার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।

এ উপলক্ষ্যে সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) রামগতি বাজারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে তারা। ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

স্থানীয় লোকজন ও নাফিজার পারিবারিক সূত্র জানায়, রামগতি উপজেলার বড়খেরি এলাকায় ইয়াছিনের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল ইউসুফের সঙ্গে কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান নাফিজার (১৮) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউসুফ নাফিজার আপত্তিকর ছবি ও গোপন ভিডিও ছড়িয়ে দেয় প্রেমিক ইউসুফ। এতে লজ্জায় গত ১১ আগস্ট ওই কলেজছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে তা নেয়নি পুলিশ। গত ২৯ আগস্ট প্রেমিক ইউসুফ মাহমুদসহ তার মা রহিমা বেগম ও বোন ঝর্ণা বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ওই কলেজছাত্রীর বাবা মো. হেলাল বাদি হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য বলেছেন বিচারক।

এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশ সদস্য ইউসুফের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সুযোগে বিযয়ে আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ইউসুফ। সেগুলো গোপনে ভিডিও ধারণ করে সে।

মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নিহতের চাচা মো. রাশেদ বলেন, ইউসুফের সঙ্গে আমার ভাতিজির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তা শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। ইউসুফ আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে রাখে এবং তা ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিলো। লম্পট ইউসুফ একপর্যায়ে বিয়ের কথা অস্বীকার করলে বিষয়টি নাফিজা তার পরিবারকে জানায়। মেয়ের দিকে তাকিয়ে ইউসুফের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হই পরিবার এবং আমি ইউসুফকে ফোন দিয়ে বিয়ের কথা বললে সে নাফিজাকে বিয়ে করতে পারবে না বলে নানা রকম তালবাহানা শুরু করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধারণকৃত ভিডিও, ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয় ইউসুফ। সেই সঙ্গে আমাদের আত্মীয়ের ইমোতে ছবিগুলো পাঠায় ইউসুফ। আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছেয়ে দেওয়ায় গত ১ আগস্ট ইউসুফের বাড়িতে যায় নাফিজা। তাকে অপমান করে বের করে দেয় ইউসুফের পরিবার। এতে অপনার সহ্য করতে না পেরে লজ্জায় গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বিষপান করে নাফিজা।

গত ১১ আগস্ট অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে নাফিজা মারা যায়।

মানববন্ধনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা বলেন, নাফিজা রামগতি আহমদিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। লম্পট প্রেমিক ইউসুফের প্রেমের বলি হয়েছে সে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com