• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • শনিবার | ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | রাত ১১:০৮
  • আর্কাইভ

মানুষ তার কবরের জায়গা পাবে না, এটা হতে পারে না : আইজিপি

৭:৪৭ অপরাহ্ণ, অক্টো ০৫, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ লক্ষ্মীপুরের ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত একটি গণকবর ও একটি মসজিদের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বলেছেন, একটা মানুষ মৃত্যু বরণ করলে তাকে দাফন করা এটা তার ধর্মীয় অধিকার। এটি তার পরিবারের নৈতিক কর্তব্য। আমাদের দেশ এখন আর গরীব দেশ না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর এসময়ে মানুষ তার কবরের জায়গা পাবে না, এটা হয় না। তাই বিবেকের তাড়নায় নিজ উদ্যোগে জেলা পুলিশের মাধ্যমে জমি কিনে এখানে মসজিদ এবং কবরস্থান নির্মাণ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, এটি ওয়াক্ফ করা হয়েছে। এখানে যেন শিশুরা ধর্মীয় এবং বাংলা শিক্ষা নিতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য একটা তহবিল গঠন করা হবে। ওই তহবিলে স্থানীয় বিত্তশালী ও দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগীতা করার আহ্বান জানান আইজিপি। এসময় তিনি নিজেও ওই তহবিলে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুতার গোপ্টা এলাকায় ভূমিহীনদের জন্য আইজিপির নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি কবরস্থান ও একটি মসজিদের ফলক উন্মোচন করে গণকবরটি পরিদর্শন করে মসজিদের পাশে দুটি বৃক্ষ রোপন করেন। পরে ওই মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন আইজিপি ড. বেনজীর।

তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পত্রিকার একটি খবরে পুনাকের সভানেত্রী ও তার স্ত্রী জানতে পেরেছেন লক্ষ্মীপুরের নদীভাঙা মানুষের কবরের জায়গা নেই। ওই খবরে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি এসব হতভাগা মানুষের কবরস্থান নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন।

আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ পুরো কাজটি সুষ্টভাবে সম্পন্ন করার জন্য চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারসহ অনান্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া অসহায় মানুষের পক্ষে এ ধরণের প্রতিবেদন তুলে ধরার জন্য স্থানীয় সাংবাদিক সানা উল্যাহ সানুকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, চট্রগ্রাম বিভিাগীয় ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক সানা উল্যাহ সানু ও ভূমিহীনদের পক্ষে স্থানীয় আবদুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা, জেলা পুনাকের সভানেত্রী কাজী বন্যা আহমেদ, চট্রগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সাইফুল ইসলামসহ পাশবর্তী জেলার পুলিশ সুপারগণ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন বাসিন্দারা দিন দিন ভাঙনের কবলে পড়ে উদ্বাস্তু হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যাদের জমি কেনার সামর্থ্য নেই তারা সরকারি বেড়িবাঁধ বা সড়কের পাশে বসবাস করছেন। ভাঙনের শিকার এমন আড়াই হাজার পরিবারের প্রায় ১০ হাজার মানুষ লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের দুই পাশে বসতি স্থাপন করে আছেন। তবে এসব পরিবারের কেউ মারা গেলে তাদের কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে বিপাকে পড়তে হতো তাদের পরিবারের সদস্যদের।

এ বিষয়ে স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘লক্ষ্মীপুর২৪’ এ সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নজরে পড়লে তিনি জেলা পুলিশের মাধ্যমে তিনি ভবানীগঞ্জের সুতার গোপ্টাতে সাড়ে ২৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে গণকবর এবং মসজিদ তৈরি করে দেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com