• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৭:৩০
  • আর্কাইভ

বেপরোয়া হামছাদীর ‘বালুদস্যু’ সেলিম, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

৪:০৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রবাহমান খাল তবুও নাব্যতা সংকট নিরসনের নামে লক্ষ্মীপুরে খাল খনন করার করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী। কোটি কোটি টাকার বালু বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে খাল সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, কয়েকশ একর ফসলি জমি। যেকোন সময় তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে ওই এলাকার অর্ধ-শতাধিক বাড়ি-ঘর। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের একটি অংশে ভাঙণ দেখা দিয়েছে।

জেলার সদর উপজেলার উত্তর হামছাদি ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াপদা খাল থেকে এ বালু উত্তোলন করছে বালুদস্যু সেলিম। স্থানীয় লোকজনের কাছে এক আতঙ্কের নাম তিনি। কারণ প্রতিবাদ করলে হামলা এবং মামলার ভয় রয়েছে। প্রতিবাদি কয়েকজন এলাকাবসীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলাও দিয়েছেন তিনি। আর স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

এদিকে ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় স্থানীয়রা একাধিকবার জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও জনপ্রতিনিধির কাছে অভিযোগ করলে তারা বালু উত্তোলন বন্ধ করার কয়েকদিন পর আবার উত্তোলন করা শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বালু উত্তোলনের পাইপ কেটে দেয়। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারী সেলিম এলাকাবাসীকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। সবশেষ ১৭ মার্চ তিনি ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনের নামে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আসামিরা আদালতের উপস্থিত হয়ে আগাম জামিন নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের কারণে খালটি দ্বিগুণ চওড়া হয়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে খাল পাড়ের বিপুল সংখ্যক গাছপাল। ফসলি জমি, খালপাড়ের বাড়িঘর ও বেড়িবাঁধ হুমকিতে রয়েছে। বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে সেলিম এলাকাবাসীকে মামলা হামলা দিয়ে হয়রানির করার হুমকি দিয়েছে।

তিনি ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৬ মাসের জন্য খাল পুনঃখননের জন্য চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অনুমতি নেয়। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে গত তিন বছরে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে সেলিম বালু উত্তোলন করে আসছে। যদিও সরকারীভাবে বালু উত্তোলন না করতে সু-নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) হাফিজ উল্যাহ বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা কয়েকবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। এলাকাটি হুমকির মুখে আছে। জনস্বার্থে বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
বক্তব্য জানতে চাইলে উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এমরান হোসেন নান্নু বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। এতে দলের সিনিয়র নেতারা বকাঝকা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী বলেন, আমি চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৬ মাসের জন্য অনুমতি নিয়ে নিজ খরচে বালু উত্তোলন করছি। এতে ফসলি জমি ও এলাকার ক্ষয়-ক্ষতি হলে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখবে। আমার করার কিছু নেই।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে আমরা চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুটি চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা বালু উত্তোলন বন্ধ করবেনা বলে জানিয়েছে। বালু উত্তোলনে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হলেও তা নেওয়া হয়নি। এটি বন্ধ করতে আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, আমাদের কয়েকশ কিলোমিটার খাল আছে। কিন্তু টাকার অভাবে তা খনন করা যাচ্ছে না। অনেক স্থানে খাল ভরাট হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে ১৩ সেপ্টেম্বর ইকবাল হোসেন সেলিম পাটওয়ারী নিজ খরচে নাব্যতা সংকট নিরসনে খাল খনন করে পলি মাটি অপসারণ করার জন্য আবেদন করেছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে খাল খননের জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকা অফিসে পাঠানো হয়েছে। পরে ঢাকা থেকে তাকে খননের অনুমতি দেওয়া হয়। এজন্য সেলিম বোর্ডকে রাজস্ব অনুযায়ী অর্থ জমা দিয়েছেন। কিন্তু বালু উত্তোলন করতে গিয়ে আশপাশের ফসলি জমি, বাড়িঘর ও বেড়িবাঁধের ক্ষতি করা যাবে না।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com