• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৯:৫৭
  • আর্কাইভ

হারিয়ে যাওয়া শিশু সুমাইয়া ৫ মাস পর ফিরে পেল আপন ঘর

৮:৫৩ অপরাহ্ণ, নভে ০৭, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের দিনমজুর পরিবারের শিশু কন্যা সুমাইয়া (১০)। ঘর থেকে বেরিয়ে প্রায় ৫ মাস আগে পথভোলা হয়ে হারিয়ে যায়। এ কয়মাসে পথশিশু হিসেবে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে সম্প্রতী ফের আত্মভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুরে ফিরে আসে। তবে নিজের বাড়ির ঠিকানা জানা ছিলনা শিশু সুমাইয়ার। এক পর্যায়ে পুলিশের সহযোগীতায় আশ্রয় পায় সরকারী শিশু পল্লীতে। পরে লক্ষ্মীপুর সমাজসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তৎপরতায় অবশেষে শিশুকন্যাটি ফিরে পায় আপন ঘর। বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আমলী আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিকেলে সংবাদকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এসময় তিনি জানান, পরিচয় না পাওয়ায় গত ২ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে চাঁদপুরের বাবুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) পাঠানো হয়। একইসাথে তার ছবি সম্বলিত ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেয়া হয়। এভাবে খোঁজ পেয়ে তার মা সমাজসেবা কার্যালয়ে এসে যোগাযোগ করেন। পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল কাদেরের নির্দেশে সুমাইয়াকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, সুমাইয়া ভোলা জেলার দিনমজুর মো.সজিবের মেয়ে। তবে শিশুটির বাবা অন্যত্র বিয়ে করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ায় মা মারজাহানের সঙ্গে শিশুটি কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকায় নানার বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে।

আদালত ও শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া সহ ৩ শিশু সন্তান নিয়ে অভাব-অনটনে হিমশিম খাচ্ছিল মা মারজাহান। যে কারণে পড়ালেখারও সুযোগ পায়নি শিশু সুমাইয়া। ৫ মাস আগে সুমাইয়া নানার বাড়ি থেকে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে ভিক্ষা করতে বের হয়। কিন্তু সে পথভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে কোতোয়ালি ‘বারাকা শিশু সেন্টার’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকে পথশিশু হিসেবে চিহ্নিত করে।

সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর ঢাকা থেকে শিশুটি ওই সেন্টার থেকে লুকিয়ে বের হয়ে  লক্ষ্মীপুরে চলে আসে। তবে সে জানতোনা নিজের বাড়ীর ঠিকানার কাছাকাছি শহরে এসে নেমেছে সে। কারন তার জানা ছিলনা নিজ বাড়ীর ঠিকানা । তখন শহরের ঝুমুর এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সদর মডেল থানা হেফাজতে পাঠায়। পরে শিশুটিকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বয়ে আদালতের মাধ্যমে চাঁদপুরের বাবুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) পাঠানো হয়।

সুমাইয়াকে পরিবারে ফিরিয়ে দিতে আইনী প্রক্রিয়ার সকল পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা করে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি।

সুমাইয়ার মা মারজাহান বলেন, “সুমাইয়া হারিয়ে যাওয়ার পর এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। তিনদিন আগে ফেসবুকে দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজন আমাকে জানিয়েছে। পরে আমি সমাজসেবা অফিসে এসে যোগাযোগ করলে আদালতের মাধ্যমে তাকে ফিরে পেয়েছি।”

দির্ঘদিন পর নিজের কন্যাকে ফিরে পেয়ে মা মারজাহানের বুক ভরে উঠলো যেন। আদালতপাড়ায় মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আবেগের কান্নায় খুশি প্রকাশে পরিলক্ষিত হয় তা। শিশুটিও যেন মায়ের বুকে ফিরে পেল নিরাপদ আশ্রয়।

প্রসঙ্গত, ২ নভেম্বর সুমাইয়ার সঙ্গে পপি নামে ৯ বছর বয়সী আরও এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম মালেক ও মায়ের নাম সাথী। মা-বাবার নাম বলতে পারলেও ঠিকানা বলতে না পারায় বর্তমানে শিশুটিকে চাঁদপুরের বাবুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com