• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • রবিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | শীতকাল | বিকাল ৪:০৪
  • আর্কাইভ

সবজি চাষে জসিমের সাফল্য

৯:২২ অপরাহ্ণ, জানু ০৯, ২০২১

প্রবাহ রিপোর্ট : মো. জসিম উদ্দিন, বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের আদিলপুরে। স্থায়ীভাবে বসবাস করেন লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে। সেখানে সার এবং কীট নাশকের ব্যবসা করতেন। গত ৭ বছর আগে ব্যবসার পাশাপাশি সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েন তিনি। মেঘনার বুকে জেগে উঠা চরগুলোতে সবজি চাষ করে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন।

বলেন, সবজি চাষ করে প্রতি বছর তার আয় হয় প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা। তাই পুরোপুরি তিনি এখন সবজি চাষী। শুক্রবার সকালে জসিমের সাথে কথা হয় সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্য চররমনী মোহনে। মেঘনা নদীর রহমত খালী চ্যানেলের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫ একর জমিতে তার সবজি ক্ষেত। সেখানে চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, শশা, করলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ করেছেন তিনি। এরই মধ্যে কয়েক দফায় বিক্রিও করা হয়েছে।

জানান, চলতি বছর সবজি চাষে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো। এ পর্যন্ত তিনি চার লাখ টাকার মতো সবজি বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে পুরো মৌসুমে ১৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি উঠবে বলে আশাবাদি তিনি। তার উৎপাদিত সবজিগুলো সরাসারি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠান তিনি।

জসিম বলেন, পুরোপুরি নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং সঠিক পরিচর্যায় তিনি সবজি চাষ করে সাফলতা অর্জন করতে পেরেছেন। মাটির গুনাগুণ জেনে জমিতে সঠিক সময়ে বীজ বপন এবং চারা লাগাতে হয়। এছাড়া সঠিক সময়ে পোকা দমনে ওষুধ ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়।

জসিম জানান, তার সবজি ক্ষেত পরিচর্যার জন্য পালাক্রমে ৮ জন শ্রমিক কাজ করে। যখন যা প্রয়োজন তখন তিনি তা ব্যবহার করেন। আশপাশের লোকজনও তার থেকে পরামর্শ নেয়। ৭ বছরে শুধুমাত্র এক মৌসুমে তার সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে ক্ষতির সম্মূখীন হয়েছেন তিনি। তিনি জানান, কৃষকরা যদি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চাষ করে তাহলে সফলতা আসবে।

তবে চরাঞ্চলে সবজি চাষে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেছেন জসিম। বলেন, এ এলাকাটি মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা বা চরের দূর্গম পথে হাটা। তাই নৌকা দিয়ে কৃষকের উৎপাদিত সবজি বা ফসল পরিবহণ করতে হয়, যা অনেকটা ব্যয়বহুল। চর পর্যন্ত যদি চলাচলের রাস্তা তৈরী করা হতো এবং পাশের একটি সরু খালের উপর একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলে এখানকার কৃষকরা খুব সহজে উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহণ করতে পারতো।

তিনি আরও জানান, সবজি চাষে প্রতিনিয়ত পানি সেচ দিতে হয়। কিন্তু চরে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত খরচে সেচযন্ত্র ভাড়া করে সেচ দিতে হয় তাদের। এ সমস্যাগুলো না থাকলে এ এলাকার কৃষকরা সবজি চাষে উৎসাহ পেত।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com