• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • রবিবার | ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | সকাল ৭:০০
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে ‘রেডজোন’ ভিত্তিক লকডাউন, প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় জনমনে বিভ্রান্তি!

২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে ‘রেডজোন’ ভিত্তিক লকডাউন ঘোষণা করা হলেও জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনের বিষয়ে পৌর এলাকায় মাইকে প্রচারণা চালানো হয়। এতে বলা হয়, ‘১৬ জুন (মঙ্গলবার) ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত জেলা সদরের পৌর ৬, ৭ ও ১৫ ওয়ার্ড এবং ৫ নং ওয়ার্ডের আংশিক লাকডাউন ঘোষণা করা হলো।’

তবে ‘উপজেলা প্রশাসন লক্ষ্মীপুর সদর’ নামক উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেজবুক পেজে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ‘রেডজোন’ এলাকা হিসেবে চিহিৃত অঞ্চলগুলোকে লকডাউন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে সদর উপজেলার পৌর ১, ২, ৫, ৬, ৭, ১১ও ১৫ নং ওয়ার্ড এবং পৌর এলাকার বাহিরে দক্ষিণ হামছাদী, দালালবাজার, পার্বতীনগর, বাঙ্গাখা, মান্দারী, চন্দ্রগঞ্জ ও কুশাখালী ইউনিয়নকে লকডাউন করার কথা জানানো হয়। এসকল এলাকায় জনসমাগম ও চলাচল পরিহার করার অনুরোধ করে উপজেলা প্রশাসন।

এতে আরও বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় বিষয় ব্যতিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়মানুযায়ী নিয়ন্ত্রিত থাকবে। শুধুমাত্র ওষুধ দোকান ব্যতিত অন্যসব দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং হাইওয়ে সড়ক ব্যতিত অন্য সকল সড়কে পিকআপ ভ্যান, রিক্সা, সিএসজি অটোরিক্সা, মোটর সাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। এসময় অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারিত মাইকিংয়ে পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ডকে আংশিক লকডাউন ঘোষণা করলেও ওই ওয়ার্ডের কোন এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলা হয়নি। আর জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনের ঘোষণাকৃত লকডাউন এলাকার ‘হেরফের’ থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এছাড়া দিনভর বা সন্ধ্যায় লকডাউনে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না জানিয়ে গভীর রাতে লকডাউনের বিষয়ে প্রচারণা চালানোকে দায়িত্বহীন বলে মনে করেছেন অনেকে। কারণ গভীররাতে সিদ্ধান্তের বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষই অবগত নন।

অন্যদিকে, সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে জেলা এবং অন্যান্য উপজেলা প্রশাসনের মধ্যেও। জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি উপজেলার স্ব-স্ব নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলার রেডজোন লকডাউন ঘোষণা করলেও সে বিষয়ে অবগত ছিলো না জেলা প্রশাসন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুন এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমলনগর উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন।

ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘১৫ জুন ভোর ৬ টা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কমলনগর উপজেলা সম্পন্ন লকডাউন থাকবে।’

১৩ জুন অপর এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৫ থেকে ৩০ জুন একই পর্যন্ত রামগতির পুরো উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মমিন। পরবর্তীতে ১৪ জুন সেটাকে সংশোধিত করে ১৫ জুনের পরিবর্তে ১৬ জুন করা হয়। ওই আদেশকে আবারও সংশোধন আনা হয়। শুধুমাত্র উপজেলার চিহিৃত রেডজোনকে লকডাউন ঘোষণা করে ১৫ জুন দুপুরে ইউএনও’র অফিসিয়াল ফেজবুকে জানানো হয়, রামগতির পৌরসভা, রড়খেরী ও চরগাজী ইউনিয়ন রেড জোন হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ লকডাউন ঘোষণা করা হলো।

একইভাবে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান ১৪ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে ফেজবুকে এক জরুরী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলার পৌর এলাকা ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন। যদিও এর আগে উপজেলাকে লকডাউনের ঘোষণা দেন। পরে সেটা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।

অপরদিকে রায়পুর পৌরসভায় ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী।

এনিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ১৪ জুন সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ১৪ জুন রাত ১০ টার দিকে একজন গণমাধ্যম কর্মী জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলার কোথাও লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি।

বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চরম বিভ্রান্তি দেখা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীদেরও লকডাউন নেই বলে জানান ডিসি। তবে সোমবার কয়েকটি গণমাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ হলেও সন্ধ্যা নাগাদ এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জনমতে বিভ্রান্তির সৃষ্ঠি হয়।

এদিকে সোমবার বিকেলে জেলার রেডজোনের ম্যাপ প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

এতে সর্বশেষ ১৪ দিনের শনাক্তকৃত রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা লাখ প্রতি ১০ এ অধিক হলে ওই এলাকাকে রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জেলার ৫টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলা, রামগঞ্জ, কমলনগর উপজেলাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবার উপজেলা ভিত্তিক নির্দিষ্ট ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার রেডজোন চিহ্নিত করা হয়। এতে জেলার সবগুলো পৌর এলাকা এবং উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন রেডজোন হিসেবে হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সোমবার (১৫ জুন) রাতের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলাতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন। করোনা শনাক্ত হওয়ার আগেই মারা গেছে ৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জন করোনা রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্য সদর উপজেলার ৯ জন এবং কমলনগরের চারজন। আর মৃত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় জেলার রামগঞ্জের একজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ২১ জন এবং কমলনগরের দুইজন।

জেলায় শনাক্তকৃত করোনা রোগীদের মধ্যে ৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। হোম আইসোলেটেড এ চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৭১ জন। ঢাকায় রেফার করা হয়েছে দুইজনকে।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা সদর উপজেলাতে। এখানে শনাক্ত হয়েছে ২০৮ জন। এছাড়া রামগঞ্জে ৮৫, রায়পুরে ৫৩, কমলনগরে ৭০ ও রামগতিতে ৩২ জন শনাক্ত হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com