• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ১১:০৩
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেনি গরুর বাজার, হতাশ ব্যবসায়ীরা

৫:০১ অপরাহ্ণ, জুলা ২৪, ২০২০

মো. নিজাম উদ্দিন : কুরবানীর ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। এর পরেও জমে উঠেনি লক্ষ্মীপুরের গরুর বাজারগুলো। বাজারে দর্শনার্থী থাকলেও ক্রেতা নেই। পশুর দাম স্বাভাবিক হলেও বিক্রি না হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

সাধারণ মানুষ বলছে, করোনাকালীন সময়ে আর্থিক সঙ্কটে থাকায় অনেকের কুরবানী দেওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর বিক্রেতারা বলছে, কুরবানীর পশু বিক্রি করতে না পারলে তাদেরকে আর্থিক লোকসানে পড়তে হবে। একইভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরু বাজার ইজারাদারেরা।

এদিকে, করোনা মহামারির কারণে বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সরকারী নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পৌরসভার বেড়ির মাথা এলাকায়। পৌর কর্তৃপক্ষ বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার এবং রবিবার এ হাটে গুরু বেচাকেনা হয়। তবে কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে জমজমাট থাকতো জেলা শহরের বৃহৎ এ হাটটি। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে গরু থাকলেও তেমন একটা বিক্রি হচ্ছে না। তবে লোকজনের সমাগম দেখা গেছে। দরদাম দেখেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন তারা। এছাড়া করোনাকালীন সময়ে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখার জন্য সরকারী নির্দেশনা দেওয়া থাকলেও ক্রেতা বা বিক্রেতাদের তা মানতে দেখা যায়নি। জড়োসড়ো হয়ে পশু যাচাই বা দরদাম করতে দেখা গেছে তাদের। মাস্কও ব্যবহার করেনি অনেকে।

পশু ক্রয়ের বিষয়ে ক্রেতারা বলছেন, দরদাম যাচাই করে আরও কয়েকদিন পর তারা পছন্দের পশুটি কিনবেন।

গরু দেখতে আসা আবদুল খালেক জানান, তিনি গরুর দাম দেখতে এসছেন। তবে এখনো কেনার সিদ্ধান্ত নেননি। একদিকে বর্ষা মৌসুম, অন্যদিকে গো-খাদ্যের সঙ্কট। তাই ঈদের খুব কাছাকাছি সময়ে তিনি গরু কেনার চিন্তা করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই দরদাম করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা।

আবদুন নুর নামে অরেকজন বলেন, ‘গরুর দাম গেল বছরের তুলনায় স্বাভাবিক থাকলেও করোনায় আর্থিক সঙ্কটের কারণে গরু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

সদর উপজেলার চররুহিতা এলাকার গরুর ব্যবসায়ী বাবুল জানান, তিনি কুষ্টিয়া থেকে বড় আকারের ১০ টি গরু বিক্রির জন্য এনেছেন। গরু প্রতি তার খরচ হয়েছে এক লাখ ২০ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন বাজারে গরুগুলো উঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জেলা শহরের বেড়ির মাথা গো-হাটাতেও তিনি গরুগুলো নিয়ে আসেন। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি করতে পারেন নি তিনি। ক্রয় মূল্যের চেয়েও কম দামে মূল্য হাকাচ্ছেন ক্রেতারা।

বাজারের বেশিরভাগ গরুই ভারতীয়।

খোরশেদ আলম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘৭২ হাজার টাকায় আজ একটি গরু বিক্রি করেছি। কিন্তু গরুটি ৭৫ হাজার টাকায় কিনি। গরুর পেছেনে আরও তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্রেতা না থাকায় লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করেছি।’

এদিকে, বাজার ঘুরে দেশিয় গরুর চেয়ে ভারতীয় গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশি গরুর বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ী হাসানুজ্জামান বলেন, ‘বাজারে দেশী গরুর চেয়ে ভারতীয় গরু বেশি থাকায় দাম পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকার যেন ভারতীয় গরু আসা পুরোপুরি বন্ধ রাখে। তা না হলে দেশি গরুর খামারী এবং ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়বে।’

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন শাহী বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার গরু বিক্রি একদম কমে গেছে। করোনাকালীন আর্থিক সঙ্কটে অনেকেই এবার হয়তোবা কুরবানী দিতে পারবে না। আবার যারা একাই একটি গরু কুরবানী দিতো তারা এবার ভাগে কুরবানী দিবে।’

গরু বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে হাটে আসা লোকজনকে মাইকে সচেতনতার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিধির বিষয়টি পুরোপুরো রক্ষা করা যাচ্ছে না।’

পৌর গরু বাজারের ইজারাদার মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বাজারে গরুও কম, ক্রেতাও কম। গেল ঈদের এ সময়টাতে প্রচুর গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার বেচাবিক্রি একদম কম। তাই ইজারার টাকা উঠাতে কষ্ট হবে।’ তিনি বলেন, ‘ক্রেতা-বিক্রেতা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য সেচ্ছাসেবী সদস্যরাও কাজ করছে।’ তিনি জানান, বাজারে নিবিঘ্নে যেন পশু ক্রয়-বিক্রয় করা যায় সেজন্য গোয়েন্দা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com