• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল | রাত ৩:০৫
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৪ ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা : প্রতিষ্ঠান সিলগালা

৩:০৫ অপরাহ্ণ, আগ ০৮, ২০২২

লক্ষ্মীপুরে প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও সনদ ছাড়াই একই পরিবারের চার সদস্য বিভিন্ন ‘জটিল রোগের চিকিৎসা’ দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে থাকা শর্ম্মা মেডিক্যাল হলে অভিযান পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল সালেহীন। এ সময় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. সাইফুল ইসলাম শরীফ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুমোদন ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকায় ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালাবে না বলে মুচলেকা দেন সেখানকার ডিগ্রিহীন চিকিৎসকরা। তারা হলেন- রণজিৎ শর্ম্মাধিকারী, অনিতা রানী শর্ম্মাধিকারী, প্রণব শর্ম্মাধিকারী ও সুমিতা রানী শর্ম্মাধিকারী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের সমতা সিনেমা হলের পাশে শর্ম্মা মেডিকেল হলে ওই চারজন নিজেদের চিকিৎসক দাবি করে অর্শ, গেজ, ওরিশ ও ভগন্দরসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা করে আসছেন। রায়পুরের নতুন বাজারে তাদের আরো একটি চেম্বার রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি ও সনদ না থাকলেও তারা বিভিন্ন সময় রোগীদের অপারেশনও করিয়েছেন। তাদের নামের পাশে লেখা ডিগ্রিগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই। নাম মাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের বিশেষজ্ঞ দাবি করে চিকিৎসা সেবা দিতেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শর্ম্মা মেডিক্যাল হলের কথিত চিকিৎসক প্রণব শর্ম্মাধিকারী যেসব ডিগ্রি ব্যবহার করেছেন, এসব ডিগ্রির বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এরকম কোনো ডিগ্রিও নেই। পুরোপুরি অবাস্তব কিছু নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চিকিৎসা দিতেন তিনি। তার স্ত্রী সুমিতা রানীও তার মতো ডিগ্রি ব্যবহার করেন। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে তিনিও এখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. সাইফুল ইসলাম শরীফ বলেন, এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারে না। তারা নামের আগে ডা. লিখতে পারবে না। অভিযুক্তরা যেসব রোগে চিকিৎসা দিয়ে এসেছেন, তা তারা করতে পারবেন না। কারণ তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান নেই।

লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবির বলেন, শর্ম্মা মেডিকেল হলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এতে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপরাধীরা মুচলেকা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা যেন প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে না পারেন, সেদিকে নজরদারি থাকবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট র‍্যাব-১১ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে আবার প্রতিষ্ঠানটি চালু করে ওই চার ভূয়া চিকিৎসক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com