• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৯:৫৬
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় ‘করোনা’ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে শ্রমিকরা, মানছেনা ভাটাবন্ধের আদেশ

৪:০০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০২০

মো. নিজাম উদ্দিন : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা এবং কমলনগর উপজেলার ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানছেনা ভাটা মালিকরা। বরং চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে ইটভাটাতে রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন ভাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা।

ভাটায় ধূলিবালু এবং চিমনির নির্গত ধোঁয়ার তীব্রতা থাকলেও কোন শ্রমিক মুখে ব্যবহার করছে না মাক্স। এছাড়া খালিমুখে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। ঘন্টার পর ঘন্টা অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে তাদের। ফলে মরনব্যাধী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছেনা ভাটা মালিকরা। শ্রমিকদের মধ্যেও নেই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে কোন ধরণের সচেতনতা। ভাটা মালিকদের দাবি, ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হবে। তাই সীমিত আকারে ভাটা পরিচালনা করছেন তারা।

জানা গেছে, গেল ২৫ মার্চ সদর উপজেলার সকল ইটভাটার কার্যক্রম আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাধ্যতামূলক বন্ধ রাখার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত সময়ে ভাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থানের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া জেলার কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে গেল ২৭ মার্চ বিকেলে উপজেলার সকল ইটভাটা বন্ধ রাখার জন্য একটি পোষ্ট দেন। বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারীর ইউনিয়নের মান্দারী বাজার সংলগ্ন ইটভাটা, জকসিন বাজারের উত্তর এবং দক্ষিণের কয়েকটি ইটভাটা, দত্তপাড়ার পশ্চিম করইতোলা, বাঙ্গাখাঁর নেয়ামতপুরের ইটভাটাগুলোকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

এছাড়া তেওয়ারীগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ, কুশাখালী ও চররমনী মোহনের সবকটি ইটভাটায় হাজার হাজার শ্রমিক প্রাথমিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করে দলবদ্ধভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। কোন ভাটায় প্রবেশদ্বারে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভেতরে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সদর উপজেলার জকসিন বাজারের উত্তরে অবস্থিত ‘এমবিবি’ নামক ইটভাটার একজন শিশু শ্রমিক বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। মাঝি আমাকে কাজ করতে বলেছে, আমি কাজ করি।’

একই ভাটার ইট বহনের কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাটা বন্ধ রাখার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানিনা। মালিকপক্ষ কাজ বন্ধ করতে বললে আমরা কাজ বন্ধ রাখতাম।’ আরেকজন শ্রমিক বলেন, ‘কাজ বন্ধ রাখলে আমাদের সংসার চলবে না। আমরা গরীব মানুষ, করোনায় আমাদের কিছু হবে না।’

ওই ভাটার মালিক বলেন, ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও তা আবার প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমাদের ইটভাটা কমিটি এ বিষয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলেছে। তারা বলেছে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে। তিনি আরও বলেন, ঋণ নিয়ে আমরা ভাটা পরিচালনা করি। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখলে আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এমনিতেই এ মৌসুমে বৃষ্টির কারণে কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ইটভাটাগুলোকে সাময়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আইন না মানলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই অবস্থা জেলার কমলনগর উপজেলার ইটভাটাগুলোতে।

শনিবার (২৯মার্চ) দুপুরে উপজেলার তোরাবগঞ্জ গ্রামের মেসার্স রহিমা ব্রিকস, মদিনা ব্রিকস, তৌসিক ব্রিক্স ও ভবানীগঞ্জ ব্রিক্সসহ উপজেলার সকল ইটভাটার কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।

সেখানে ইটভাটায় কর্মরত কয়েকজন শ্রমিক জানান, ভাটা মালিকেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “করোনা বুঝি না, ইট তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে। না হলে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে শ্রমিকরা বাড়ি যেতে হবে।”

রহিমা ব্রিক্স, সৌসিফ ব্রিক্স ও ভবানীগঞ্জ ব্রিক্স এর একাধিক শ্রমিক আক্ষেপ করে জানান, মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ‘আমাদের (শ্রমিক) নাকি টাকা দিয়ে কিনে আনছে, তাই করোনা’র ভয় নেই।’ এ পরিস্থিতিতে আমাদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের ব্যাপারেও কোন ধরনের ব্যবস্থাই নেয়নি মালিকপক্ষ।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেনের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com