• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • শনিবার | ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | বিকাল ৫:২৪
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরের হামছাদীতে বন্দোবস্তকৃত জমির দখল নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ, হামলা ও ভাংচুর

১২:১৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে বন্দোবস্তকৃত সরকারী জমির দখল নিয়ে দু’ পক্ষের বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেবি নাজনিন নামের এক গৃহবধু আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। আহত গৃহবধূ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদী ইউনিয়নের পূর্ব নন্দনপুর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ মঙ্গলবার সদর থানায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এদিন বেবি নাজনিন এর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে তার জানায়, তাদের পরিবারের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ৮ শতাংশ সম্পত্তি প্রতিবেশী প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম গং অন্যায় মালিকানা দাবি করে জবর দখলের উদ্দেশ্যে কাজে বাধা প্রদান সহ হামলা ও ভাংচুর চালিয়ে জমির সীমানা পিলার গুঁড়িয়ে দেয়। তারা এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক এস আই মো. সোহেল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, দক্ষিণ হামছাদী মৌজার আরএস ২২৮৬ নং খতিয়ানভূক্ত ২১২৩/৩০২৬ দাগে সরকারী খালের পরিত্যক্ত কিছু জমি বন্দোবস্ত নেয় বেবি নাজনিন ও মনির হোসেনের পরিবার। নিয়মমোতাবেক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হয়ে যুগ যুগ ধরে তারা পারিবারিকভাবে উক্ত জমির ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতী ওই জমির সাড়ে ৮ শতাংশ জমি নিজেদের মালিকানার দাবি করে বিরোধ শুরু করে একই বাড়ির রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। জমিটি জোরপূর্বক দখলে নিতে তারা বিভিন্ন সময় মনির হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে ওই জমিটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। চেয়ারম্যানের এ সংক্রান্ত মিমাংসায় উভয়পক্ষের লিখিত সম্মতি থাকার কথা জানা যায়। সে মোতাবেক মনির হোসেনের স্ত্রী বেবী নাজনীন সোমবার দুপুরে সেখানে সীমানা পিলার পুঁতে বেড়া দিয়ে সেটি ঘেরাও করে নেয়ার কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নয়ন সহ তাদের অনুসারি একদল ভাড়াটিয়া কাজে বাধা দিয়ে ভাংচুর সহ তান্ডব করে।

এতে বাধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় মনির হোসেনর স্ত্রী বেবী নাজনীন আহত হন। পরে সদর হাসপাতাল থেকে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

মনির হোসেনের স্ত্রী বেবী নাজনিন বলেন, “আমাদের লীজকৃত সম্পত্তি নিয়ে অন্যায়ভাবে বিরোধ সৃষ্টি করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ওই জমিতে সীমানা পিলার দিয়ে ঘেরাও করি। কিন্তু রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেয় ও আমাদের ওপর হামলা করে। হামলায় আমি আহত হই।”

প্রতিপক্ষ রফিকুলের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার নয়ন বলেন, জমির মালিকানার কাগজপত্র এতদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার স্থানীয় ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে ওই কাগজ খুঁজে পাওয়ার পর মালিকানার দাবিতে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত এর আদেশ পাওয়ার আগে অন্য কারও ভোদখল মেনে নেওয়া যায়না।

দক্ষিণ হামছাদী ইউপি চেয়ারম্যান মীর শাহ আলম বলেন, কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সীমানা জরিপ সহ মিমাংসা করে দেয়া হয়েছে। এরপরও একপক্ষের কাজে আরেক পক্ষ বাধা প্রদান করার বিষয়টি বোধগম্য নয়। এসময় তিনি আরও জানান রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা উৎশৃঙ্খল প্রকৃতির।

সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এস আই মো. সোহেল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রফিকুল ইসলামদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটানোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com