• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • সোমবার | ৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | রাত ১:২০
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরের রাজিবপুরে দোকানঘরে আটকে রেখে শিশুকে নির্যাতন, বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করলো এলাকাবাসী

৪:৪০ অপরাহ্ণ, জুলা ২৭, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামে ১২ বছরের এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। রবিবার বেলা ১২টার দিকে ওই এলাকার টুক্কামিয়া ব্রিজ সংলগ্ন অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক নিজাম উদ্দিনের ফার্মেসীতে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী ওই শিশুটিকে দোকানঘরের মধ্যে থাকা বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভূক্তভোগী পরিবারের দুই সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রাত ১১ টার দিকে ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার শর্তে পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার শিকার শিশুটির পিতার নাম বাবুল। তবে সে তার মা শাহেদা বেগমের সাথে পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের মাদাম সংলগ্ন ভাড়া বাসায় বসবাস করে। সে হাজী আমজাদ আলী পাটওয়ারী ওয়ার্কফ এষ্টেট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

ভিকটিক শিশুটি জানায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে তার দুই বন্ধুর সাথে খেলা করছিলো। পরে সে দুই বন্ধুকে রেখে পানি পান করতে নিজামের ফার্মেসীর সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো। এ সময় ডা. নিজাম তাকে দোকানের ভেতরে ঢেকে খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করে। পরে সে দোকানের সাটার বন্ধ করে দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে উঠে শিশুটি। এ সময় নিজাম হাতে একটি ইনজেকশনের সিরিজ নিয়ে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেয়।

শিশুটি বলে, ‘‘নিজাম তার পা বেঁধে ফেলে পরনে থাকা প্যান্ট খোলার চেষ্টা করে। এতে আমি জোরাজুরি করি। সে আমার হাতও বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে বাহির থেকে আমার খেলার বন্ধুরাসহ এলাকার লোকজন দোকানের সাটারে শব্দ করে আমাকে ঢাকাঢাকি শুরু করে। পরে ডা. নিজাম আমাকে একটি বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে একটি ছাতার নীচে ঢেকে রাখে। এ সময় সে আমাকে বলে- আমি যেন বাহিরে গিয়ে জানাই, ‘আমার বন্ধুরা আমাকে মারধর করেছে।’ তা না হলে ইনজেকশন দিয়ে আমাকে মেরে ফেলবে।’’

শিশুটির খেলার সাথী আবির ও মো. শিহাব বলে, ‘‘আমাদের বন্ধু আমাদের সাথে খেলার পর ফার্মেসী দোকানে তাকে ঢুকতে দেখি। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে সে বের না হওয়ায় আমরা তাকে ঢাকাঢাকি করি। পরে আশেপাশের লোকজনকে ঘটনাটি বলি। তারাও অনেকক্ষণ ঢাকাঢাকি করে। কিন্তু তারা বের হয় না।’’

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় নিজাম দোকান বন্ধ করে শশুটিকে নিয়ে দোকানের ভেতরে ছিলো। পরে এক ব্যক্তি মই দিয়ে উঠে দোকানের ফাঁক দিয়ে দেখতে পায় শিশুটির একাংশ বস্তায় ভরে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর চাপাচাপিতে নিজাম দোকানের সাটার খুললে লোকজন এবং শিশুটির ভাই শিশুটিকে বস্তার ভেতর থেকে বের করে। এ ঘটনার বিষয়ে উপস্থিত লোকজনকে সুদুত্তর না দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে নিজাম। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ এবং হইচই সৃষ্টি হলে পুলিশ এসে ভিটকটিমের ভাই অটোরিক্সা চালক শাহাদাত বাবু (২২) ও ওই এলাকার কোরবান আলী (৩৫) নামে দুই জনকে ধরে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজাম মূল ঘটনাকে ধামাচাপা দিতেই ভূক্তভোগী শিশুটির পরিবারের ওই দুই সদস্যকে পুলিশ তুলে দেওয়া ব্যবস্থা করেছে। তাদেরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করেছে।

শিশুটির মা শাহেদা বেগম জানান, আমার স্বামী আমাদের খবর রাখে না। আমি অন্যের ঘরে কাজ করে খুব কষ্টে সন্তানদের নিয়ে বাসাভাড়া করে থাকতেছি। আমি লোকমুখে শুনেছি আমার শিশুকে ডা. নিজাম দোকানে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। এ নিয়ে আমার বড় ছেলে শাহাদাত বাবু প্রতিবাদ করায় পুলিশ এসে তাকেসহ দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাত ১১ টার দিকে আটককৃতদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। আমরা যেন এ বিষয়ে (শিশু ছেলেকে নির্যাতন) কোন বাড়াবাড়ি না করি, সে হুমকি দেয় আমাদের। বাড়াবাড়ি করলে আমাদের সবার বিপদ হবে। আমি আমার শিশু সন্তানের উপর নির্যাতনেরও বিচার পেলাম না এবং আমার ছেলেকে অহেতুক পুলিশ আটক করে থানায় রাখারও বিচার পেলাম না।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে নাছির এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘‘ঘটনাটি ষড়যন্ত্র। আমার বাবা জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এলাকার লোকজন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।’’

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘‘ভূক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com