• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ২০শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ১০:৫১
  • আর্কাইভ

লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহনে নৌকা আটকিয়ে মুক্তিপণ দাবি, দুই শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ

৮:২৭ অপরাহ্ণ, মে ০৮, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে মজুচৌধুরী ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদী পথে ভোলা গামী একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটকিয়ে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা অভিযোগ উঠেছে আল-আমিন ছৈয়াল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এ সময় দুই শিশুকে নদীতে নিক্ষেপ করা অভিযোগও উঠে এ চক্রটির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৮মে) সকালে সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট অদূরে আশ্রণ প্রকল্প এলাকায় এঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত আল আমিন ছৈয়াল ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়ালের ভাতিজা। তার বাবার নাম আবু ছৈয়াল। অপরসঙ্গিরা একই এলাকার খোকন বেপারী (২৮) ও সাইজ উদ্দিন সহ ছয়জন বলে জানায় নৌ-পুলিশ।

নদী থেকে উদ্ধারকৃত শিশু দু’টি তিন বছর বয়সের শিশু কন্যা লামিয়া ও ১০ বছর বয়সী শিশু ছেলে নুর আলম। তারা সম্পর্কে মামা ভাগ্নি। জিম্মি থেকে উদ্ধারকৃতরা হলেন, শিশু লামিয়ার মা শাহনাজ (২৪), তিনি ঢাকাস্থ সিএনজি চালক মোখলেছ এর স্ত্রী। বোন সালমা (১৪), শাহনাজের চাচা রুহুল আমিন(৪৫), চাচাতো ভাই রাসেলসহ একই পরিবারের ১১ সদস্য। তারা সবাই ভোলা সদর উপজেলার কাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবাগত গভীর রাতে গৃহবধু শাহনাজের দাঁদা আবদুল খালেকের মৃত্যুর খবরে ঢাকাস্থ মেরুন বাড্ডা এলাকা থেকে পরিবারের ১১ সদস্য নিয়ে ফেরী যোগে ভোলা যাওয়ার উদ্দেশ্যে লক্ষ্মীপুরের মৌজুচৌধুরীর হাট এলাকায় আসেন। দূর্ভাগ্যবশত ঘাটে পৌছানোর পূর্বেই ফেরী চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে তারা।

এ সময় তাদের একা পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আল আমিন ছৈয়ালসহ ৭/৮জন তাদের টলারে তুলে দেয়ার কথা বলে ঘাট অদূরে বালুর চর আশ্রম প্রকল্প এলাকায় নিয়ে একটি টলারে আটকে রাখে। এসময় মুক্তিপন হিসাবে ২০ হাজার টাকা চাঁদাদাবী করে তারা। এতে বিক্যাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দিলেও রক্ষা মেলেনি।

দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পাওয়ায় তিন বছরের শিশু কন্যা লামিয়া ও ১০ বছরের শিশু নুর আলমকে মেঘনা নদীতে ছুড়ে পেলে দেয় আল আমিন ছৈয়াল। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌছে জিম্মিকৃতদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পূর্বেই পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগী গৃহবধু শাহনাজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়ালের ভাতিজা দাবীকৃত ২০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে তার শিশু কন্যা ও শিশু ভাইকে মেঘনা নদীতে পিলে দিয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্যে এমনটি ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিচার দাবী করেন তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত আল আমীন ছৈয়ালের বক্তব্য জানতে একাধিক বার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নিজ ভাতিজা আল আমিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে যাত্রীদের জিম্মি করে চাঁদাবাজী ও দুই শিশুকে পানিতে নিক্ষেপের অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল। প্রথমে তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, সে এলাকায় নেই, তার ভাতিজার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মৌজু চৌধুরীরহাট নৌ-পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) অচিন্ত কুমার দে জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌছে পরিবারের ১১ সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, অভিযুক্তরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের ভাতিজা। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নেয়ার পর তাদের ভোলায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com