মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২০ ইং | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | রাত ১:৪৯

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের শিশু কন্যাকে খুন করেন পাষন্ড পিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে দেড় বছরের এক শিশু কন্যা ফারহানা আক্তার রাহিমার খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পিতার হাতেই খুন হয় শিশুটি। প্রতিবেশি এক প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে পাষন্ড পিতা ফয়েজ আহাম্মদ মনু (৪৫) তার নিজের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্কীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক পিতা। এদিন রাতে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ।

ঘাতক পিতা মনু জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব রাাজাপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের পুত্র।

আদালতে দোষ স্বীকার করে ঘাতক ফয়েজ আহাম্মদ মনু যে বর্ননা দিয়েছে তার বরাত দিয়ে থানা পুলিশ জানায়, জমি পরিমাপ এবং বৈদ্যুতিক লাইন টানা নিয়ে ফয়েজ আহাম্মদ মনুর সাথে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিল প্রতিবেশি মতিনদের সাথে। তাদেরকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতেই নিজের শিশুকন্যাকে হত্যার একক পরিকল্পনা নেয় পিতা ফয়েজ আহাম্মদ।

পুলিশ জানায়, গত ৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টায় বাড়িতে খেলাধূলা করছিল শিশু রাহিমা। এ সময় সবার অজান্তে রাহিমাকে কোলে তুলে বাড়ি থেকে একটু দূরে নির্জন ঝোঁপের কাছে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ সেখানেই লুকিয়ে রাখে পাষন্ড পিতা। এরপর বাড়িতে এসে তার মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর রাত ১০টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মেয়ে হারানোর সাধারণ ডায়রি করেন পিতা মনু।

পিতার হাতে হত্যাকান্ডের শিকার শিশু রাহিমা

এরপর পুলিশসহ এলাকাবাসী বাড়ির আশপাশের বিভিন্নস্থানে শিশু রাহিমাকে খোঁজাখুজি করে। এর তিনদিন পর ৮ মে (শুক্রবার) রাত ১২টার পরে শিশু রাহিমার মৃতদেহ ঝোঁপের মধ্যে থেকে নিয়ে এ নিজ বাড়ির শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় পিতা মনু নিজেই।

পরদিন ৯ মে (শনিবার) সকাল ৭টার দিকে মেয়ের মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে মর্মে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশকে মোবাইল ফোনে আবগত করে তার এক আত্মীয়। পরে পুলিশ ওইস্থান থেকে শিশু রাহিমার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) রাতে শিশু রাহিমার মা’ রাশেদা আক্তার সুমি বাদি হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং-০৬/১০৫)।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দীন বলেন, ঘটনার বিষয়ে শিশুটির পিতা মাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের দুইজনের দেয়া তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়া হারানো জিডি করার পর থেকে এ বিষয়ে পিতার পক্ষ থেকে তেমন কোন সাঁড়া পাওয়া যায়নি। এতে তাদের প্রতি পুলিশের সন্দেহ হয়। বিশেষ করে তার পিতা ফয়েজ আহাম্মদের প্রতি সন্দেহ বেড়ে যায়। এ সময় পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির পিতা হত্যাকান্ডের ঘটনা স্বীকার করে এবং হত্যাকান্ডের বর্ননা দেয়।

তিনি নিজেই মৃতদেহটাকে রাতের অন্ধকারে শৌচাগারে ফেলে পরদিন সকালে পাওয়া গেছে বলে এলাকায় প্রচার করে। জমি পরিমাপ ও বৈদ্যুতিক লাইন টানা দিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে বিরোধ থাকায় তাদের ফাঁসাতে এ কাজটি করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করে শিশুর পিতা ফয়েজ। পরে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য প্রেরণ করা হয়।

ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটি মা ও পরিবারের অন্যকোন সদস্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। সে (পিতা) নিজেই কাজটা করেছে। শিশুটির মৃতদেহ পাওয়ার পর তার মা অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে যে মামলাটি করেছে ওই মামলার ১নং স্বাক্ষী ছিলো হত্যাকারী পিতা নিজেই।

তিনি বলেন, শিশুটি হারনোর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যে জিডি হয়েছে তার পর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার এবং মামলা পর্যন্ত জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই অগ্রসর হওয়ার কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক

প্রধান কার্যালয়ঃ

এ.আর. ম্যানশন
91/1, রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, লক্ষ্মীপুর।
মোবাইলঃ 01711113943

ই-মেইলঃ dailykalerprobaho@gmail.com

Copyright © 2016 All rights reserved www.kalerprobaho.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com