• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • সোমবার | ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | রাত ৪:৫৬
  • আর্কাইভ

রায়পুর পৌর নির্বাচন : সরকারী অফিসের সভাকক্ষে আ’লীগের আলোচনা সভা!

১০:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রু ২১, ২০২১

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে চলছে নির্বাচনী আলোচনা

মো. নিজাম উদ্দিন : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে উপজেলা মৎস্য ও প্রজনন কেন্দ্রের সভাকক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে আয়োজিত সভায় রায়পুর পৌরসভার মেয়র এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এতে আসন্ন ২৮ ফেব্রুয়ারী পৌর নির্বাচন কেন্দ্রীক বিভিন্ন আলোচনা করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী নিশ্চিত করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- নির্বাচনী কোন কথা হয়নি, সভায় শুধুমাত্র সাংগঠনিক আলোচনা করা হয়েছে। আর সরকারী দফতরের একটি কক্ষে কেন্দ্রীয় নেতা অবস্থান নেওয়ায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে নেতাকর্মীরা।

যদিও প্রত্যক্ষদর্শী, সভায় অংশ নেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী এবং মৎস্য কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারী দফতরের সভাকক্ষে নির্বাচনী আলোচনাকে কেন্দ্র করে পৌরবাসীর মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আর এ বিষয়টি জানতেন না বলে জানান জেলা রির্টানিং অফিসার।

রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দলীয় একটি আলোচনা করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে সভাকক্ষ বুকিং করা হয়েছে। আমাদের সাথে কথা ছিলো সংরক্ষিত এলাকায় লোকজন যেন বেশি না হয়।’

সভায় উপস্থিত লোকজন ও কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রবিবার বিকেলে রায়পুর মৎস্য গবেষণা ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলার একটি সভাকক্ষে সকল কাউন্সিলর প্রার্থীদের ডাকা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক এড. নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু, রায়পুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বিন জাকারিয়াসহ কেন্দ্রীয় এবং জেলা, উপজেলা ও পৌর কমিটির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা।

সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা অংশ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হওয়া আলোচনা সভা, শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এতে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের দিন প্রার্থীদের করনীয় সম্পর্কে আলোচনা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সভাকে কেন্দ্র করে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা রায়পুর মৎস্য গবেষণা ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে থাকে। বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে পৃথক দুটি গাড়ি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। রায়পুর এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনী এ সভাতে যোগ দেন সরকারী গাড়ি নিয়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সংরক্ষিত এ গবেষণা কেন্দ্রের ভেতরে কয়েকশ’ লোক প্রবেশ করে বিনা বাধায় পুরো এলাকা ঘোরাঘুরি করতে থাকে।

উপস্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা জানান, সভাতে আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচন বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে কাউন্সিলরদের প্রতি তাঁরা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সাথে সকল কাউন্সিলর প্রার্থীদের মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আওয়ামী লীগের এ অনুষ্ঠানে চিহিৃত জামায়াত শিবিরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইন উদ্দিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ডালিম প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন এক সময়ের দুর্ধষ শিবির ক্যাডার সোহাগ। তার হাতে আমিসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্যে সে এক সময় আমার উপর আক্রমণও করেছে। কিন্তু আজ আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ এ সভাতে তিনিও যোগ দিয়েছেন এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন দাবি করছেন। এ বিষয়ে জেলা বা উপজেলা নেতৃবৃন্দ কোন প্রতিবাদ করেনি। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক।’

সভা থেকে বেরিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেন, এটা কোন নির্বাচন কেন্দ্রীক সভা ছিলো না। কেন্দীয় নেতা হারুনুর রশিদ এখানের গেষ্ট রুমে অবস্থান নিয়েছে। তাই জেলা এবং উপজেলাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। দলীয় কর্মকান্ড নিয়েই আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনী আলোচনার বিষয়টি জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচার।

দলীয় সভায় জামায়ত-শিবির এবং বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলরদের কাউকে এখানে ডাকা হয়নি। দু’একজন হয়তো এসেছে। তাদের মধ্যে অন্য দলের থাকলেও থাকতে পারে।’

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না।’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com