• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • রবিবার | ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | বিকাল ৫:৩৭
  • আর্কাইভ

রায়পুর দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা

৪:১০ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চর আবাবিল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের কাছে অনাস্থাপত্র দিয়েছে ওই ইউপির সাতজন সদস্য। এতে ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ ২২টি অভিযোগ আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে (১১জুন) অনাস্থাপত্রটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন তারা।

অনাস্থাপত্রে স্বাক্ষর করা ইউপি সদস্যরা হলেন, খোরশেদ আলম, শাহ আলম, মুসলিম, হারুন মিজি, বুলবুল, সংরক্ষিত নারী সদস্য মরিয়ম বেগম ও ফিরোজা বেগম।

ইউপি সদস্যদের লিখিত অভিযোগে থেকে জানা যায়, পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন বেপারী দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে নীজের ইচ্ছেমতো ভিজিএফ, ভিজিডি, এলজিএসপি প্রকল্প, ৪০দিনের কর্মসূচি, হতদরিদ্রদের বরাদ্দ, কাবিখা প্রকল্প, ওয়ান পার্সেন্টসহ প্রতিটি খাতে অনিয়ম করেছেন।

ইউপি সদস্যরা বলেন, ‘আমরা তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি না। প্রতিবাদ করতে গেলেই চেয়ারম্যান আমাদের উপর চড়াও হন ও বিভিন্নভাবে অপমান-অপদস্ত করেন।’

জেলা প্রসাশকের কাছে দেওয়া অনাস্থপত্রে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ১% উন্নয়ন খাতের তিন লাখ টাকা, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডে সদস্য ভাতার বৃহৎ অংশ আত্মসাৎ, ৭ নং ওয়ার্ডের ভিজিডি কার্ডের সদস্যদের চাল আত্মসাৎ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যদের বাদ দিয়ে বেনামে প্রকল্প কমিটি করে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন পূর্বক আত্মসাৎ, দরিদ্র বিমোচনে খাল পুনঃ খনন, পানি নিস্কাসনের একাধিক প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ, ৯নং ওয়ার্ড ভিজিডি কার্ডে দুর্নীতি, চেয়ারম্যান পুত্র ফয়সলের নামে ন্যায্য মুল্যের চালের ডিলারশীপ দিয়ে দুর্নীতি করেছেন।

ভিজিডি কার্ডে অনিয়ম করায় চেয়ারম্যানের ছেলেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করে। এছাড়াও পরিষদের মাত্র তিনজন সদস্যকে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডের প্রকল্প কমিটির সভাপতি দেখিয়ে ৯টি ওয়ার্ডের প্রকল্প সম্পাদনে টাকা উত্তোলন, অসহায় ভূমিহীনদের মাঝে সরকারী গৃহনির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ আরো বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সঠিক তদন্ত করে চেয়ারম্যান নাছির বেপারীর অপসারণ দাবি করেন ইউপি সদস্যরা।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ব্যাপারি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া ২২টি অভিযোগই মিথ্যা। মেম্বারদের অনিয়মের প্রতিবাদ করা, বিধি বহির্ভুতভাবে ভাতা না দেয়ায়, দলীয় কোন্দল এবং সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক একটি পক্ষ আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য এসব ষড়যন্ত্র করছেন। যে সাতজন ইউপি সদস্য অভিযোগ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com