• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • সোমবার | ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বসন্তকাল | রাত ৩:৫১
  • আর্কাইভ

রামগতি পৌর নির্বাচনে গোপন বুথের বাহিরে ইভিএম, ৫ মেয়র প্রার্থীর ভোট বর্জন

৩:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রু ১৪, ২০২১

ভোটকেন্দ্রের গোপন বুথের বাহিরে রাখা হয়েছে মেয়র পদে ব্যালট মেশিন, প্রকাশ্যে এক নারী ভোটারকে ইভিএম-এ ভোট দিতে হচ্ছে। কাউন্সিল ও নারী কাউন্সিলর পদের ব্যালট মেশিন রাখা হয়েছে গোপন বুথে। ছবি- কালের প্রবাহ

মো. নিজাম উদ্দিন : লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভা নির্বাচন রবিবার সকাল ৮ টায় শুরু হয়েছে। ভোট কেন্দ্র গুলোতে প্রচুর সংখ্যক নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি নানা অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করেছে ৬ জন মেয়র প্রদপ্রার্থীর ৫ জনেই। ফলে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দল অওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

সরেজমিনে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ৬ নং ওয়ার্ডের আলেকজান্ডার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর ব্যালট মেশিনের মধ্যে মেয়র পদের ইভিএম ব্যালট মেশিনটি গোপন বুথের বাহিরে রেখে প্রকাশ্যে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ওই কেন্দ্রের বিএনপির এবং জাতীয় পার্টির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন এজেন্টরা।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন- তিনি নিজেই ভোট দিতে পারেন নি। ভোট দিতে গেলে আওয়ামীলীগ কর্মীদের বাঁধার সম্মূখীন হয়েছেন। এ সময় নৌকার সমর্থকরা তার কর্মীদের মারধর করেছে বলে জানান তিনি।

সকাল ১১ টার দিকে মেয়র পদে ৬ জন্য প্রার্থীর মধ্যে তিন জন প্রার্থী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে এসে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

বর্জনকারী প্রার্থীরা হলেন বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের সাহেদ আলী পটু, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের আলমগীর হোসেন, স্বতস্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীকের জামাল উদ্দিন। তার আগে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী (নারিকেল গাছ) নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সর্বশেষ দুপুর ১টার দিকে ভোট বর্জন ও ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুর রহিম।

আর ভোট গ্রহণকে ‘উলঙ্গ আয়োজন’ দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী সাহেদ আলী পটু।

বর্জনকারী প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সবগুলো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। ভোটারদের ইভিএম এ আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত হওয়ার পর নৌকার এজেন্টরা মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে দিচ্ছে। আবার কোন কোন কেন্দ্রে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার না পেয়ে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

এ ব্যাপারে বেলা ১১ টা ৪০ মিনিটের দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ইভিএম এর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। তাদের কাছে কোন অনিয়মের তথ্য নেই। ৪ জন মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সকাল ১১টার দিকে চর ডাক্তার আশ্রম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ইভিএম এর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। তাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হবে। এ কারণে অন্যান্য প্রার্থী ভোট বানচাল করার জন্য অপ্রপচার চালাচ্ছে। যাদের জনপ্রিয়তা নেই, এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক নেই, তারা পরাজয়ের বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হয়েছেন।

এদিকে সকাল ৯ টার দিকে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের মধ্য চর আবদুল্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে যান জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। কোথাও কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত ৩ আসনে নারী কাউন্সিলর পদে ১২ জন পার্থী হয়েছেন। ১০ টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৬৯ জন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com