• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | সন্ধ্যা ৭:৪৮
  • আর্কাইভ

রামগতিতে মৎস্য কর্মকর্তা কামালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জেলেরা সচেতন, জেলে শূন্য নদী! 

১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টো ১৭, ২০১৭

বিশেষ প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জেলেরা সচেতন হয়ে উঠেছে। তিনি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ না ধরার সুফল-কুফল নিয়ে জেলেদের সাথে জেলে পাড়ায়  দফায় দফায় সচেতনতামূলক বৈঠক করে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। ফলে জেলেরা নিজ ইচ্ছাতেই নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেনা। তবুও থেমে নেই অভিযান, জলে-স্থলে চলছে অবিরাম অভিযান।

সরেজমিনে দেখা যায়, রামগতির উল্লেখযোগ্য মাছঘাটের মধ্যে জারীরদোনা, জারীরদোনা সুইচ গেইট , বাংলাবাজার,  আলেকজান্ডার সেন্টারঘাট, ওসখালী ঘাট, রামগতি ও টাংকী মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায় মাছ ঘাট অনেকটা নিরব- জনমানব শূন্য । তবে কিছু জেলেকে দেখা যায় তারা ছেঁড়া জাল বুনে আর গল্প গুজব করে অলস সময় পার করছে।

আলেকজান্ডার মাছ ঘাটের ছলিম নামের এক জেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রজনন মৌসুমে মাছ না ধরলে এর সুফল পাওয়া যাবে আগামী বছর। গত বছর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ না ধরায় এবার নদীতে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে, দামও ছিল হাতের নাগালে। মাইকিং করেও বিভিন্ন বাজারে মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, “প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিস অ্যাক্ট,১৯৫০” অনুযায়ী ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এই ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের এই আদেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে।

জানা যায়, সরকারের পক্ষ হতে জেলেদেরকে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য জনপ্রতি ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও  বরাদ্দকৃত চাল জেলেরা ঠিকমত না পাওয়ায় তাদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। একদিকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ আবার অন্যদিকে পেটের তাড়না এই দুইয়ের দোলাচলে পড়ে,  ঘরে অভুক্ত  শিশুদের কান্না সইতে না পেরে কিছু জেলে লুকিয়ে নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে সংশ্লিষ্ট  প্রশাসনের হাতে ধরা খেয়ে গুনছেন জরিমানা, যেতে হচ্ছে জেলে।

তবে রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজগর আলী বর্তমানে ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু তিনি থাকা অবস্থা প্রতি রাতেই অভিযান পরিচালনা করতেন বলে অনেকেই বলতে শুনা গেছে।

জেলেদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানরা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ঠিকমত দিলে তাদের আর অন্যায়ভাবে মাছ ধরতে গিয়ে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হতোনা। এতে জেলেরা যেমন বেঁচে যেত, ঠিক তেমনি রক্ষা পেত আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। তাই এ ব্যাপারে জেলেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com