শনিবার | ১৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | রাত ১০:১২

রাজনীতির মাঠে নেই লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সা. সম্পাদক নোমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আদিষ্ট হওয়ার দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় পার হলেও রাজনীতির মাঠে পুরোপুরো নিষ্ক্রিয় জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান। দলীয় কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র জেলা সভাপতি সালাহ উদ্দিন টিপুকেই দেখা যায়। যদিও কমিটি গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি আওয়ামীলীগের এ অঙ্গ সংগঠনটি।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর ২২৪ জন কাউন্সিলরের গোপন ভোটের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সাধারণ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান কোন কর্মসূচিতেই অংশ নেন না। তাকে কাছে পাচ্ছে না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মুজিববর্ষ ও করোনাকালীন সময়সহ কোন কর্মসূচিতেই নোমান নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে, নোমান ক্যাসিনো কা-ে সমালোচিত আনিসুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত মার্চ মাসে লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাস হানা দেয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতাসহ ত্রাণ বিতরণের কার্যক্রম পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুরু থেকেই জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপুকে ত্রাণ হাতে মানুষের ধারে ধারে গেলেও, দেখা যায়নি সম্পাদক নোমানকে। অসহায় মানুষ ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন টিপু। সম্প্রতি তিনি করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। আর নোমানকে খুঁজেও পায়নি নেতাকর্মীরা। বলতে গেছে নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন নোমান। করোনার পূর্বে তার কোন রাজনৈতিক অনুসারীকেও রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি।

সাবেক নেতাদের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করে এসে টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলরদের ম্যানেজ করে নোমান দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। দলের জন্য তার কোন ত্যাগ নেই। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগও নেই। নোমান শুধু পদবিই বহন করে।
সূত্র জানায়, ক্যাসিনো সংক্রান্ত ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতারের পর থেকেই নোমান রাজনৈতিক মাঠে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের ঘনিষ্ট লোক ছিলেন।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানায়, প্রায় আড়াই বছরের বেশি হয়ে গেছে এখনো জেলা যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। জেলা যুবলীগের কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদক থাকলেও সভাপতিই সক্রিয়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নোমান দক্ষ নয়। নেতাকর্মীরা কখনোই তাকে কাছে পায়নি। এই করোনার ক্রান্তিলগ্নে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও উপেক্ষা করেছেন। সাধারণ মানুষের তো নয়ই, অসহায় নেতাকর্মীদেরও খোঁজ নেয়নি নোমান।

সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইউনুছ হাওলাদার রূপম ও লাহারকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক তফছির আহম্মেদ জানান, দলীয় সকল কাজ তারা সভাপতির নির্দেশেই করেন। সম্পাদক নোমানকে তারা ধারে কাছেও পান না। মাঝে মাঝে তাকে দেখা যায়।

কমলনগর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী বলেন, দলীয় সকল কর্মসূচির সিদ্ধান্ত জেলা সভাপতি থেকে পাই। আর সাধারণ সম্পাদককে অনেক অনুষ্ঠানে দেখাও যায় না। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার সঙ্গে খুব কমই কথা হয় বলে জানান বাপ্পী।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আমি লক্ষ্মীপুরে বৃক্ষরোপণ প্রোগ্রাম করেছি। সেখান থেকে ঢাকায় এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। পরে আনোয়ার খাঁন মেডিকেলে ভর্তি হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক

প্রধান কার্যালয়ঃ

এ.আর. ম্যানশন
91/1, রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, লক্ষ্মীপুর।
মোবাইলঃ 01711113943

ই-মেইলঃ dailykalerprobaho@gmail.com

Copyright © 2016 All rights reserved www.kalerprobaho.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com