• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • শুক্রবার | ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | বর্ষাকাল | ভোর ৫:১৬
  • আর্কাইভ

দত্তপাড়ায় হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন

১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানু ০৯, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরে যুবদল নেতা ও এক সময়ের আলোচিত সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন পালন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
এতে হত্যা মামলাকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
দত্তপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান কামাল, যুবলীগ নেতা মনির হোসেন রুবেল, মঞ্জুরুর হাসান টিটু, দত্তপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী নিজাম, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন গাজী প্রমূখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন দত্তপাড়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী হিরন, সাধারণ সম্পাদক জহিরুর ইসলামসহ আ’লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসন হত্যার ঘটনার সময় সাজাপ্রাপ্ত আ’লীগ নেতা আজিজ মেম্বার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম কামাল উদ্দিনের সাথে অন্যত্র বসা ছিলেন। তাছাড়া তার ৫ ছেলে সবুজ, বিপ্লব হোসেন বিপ্লব, ইব্রাহিম, মানিক ও ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলেও উপস্থিত ছিলেন না। অথচ বিএনপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আজিজ মেম্বার ও তার ছেলেদের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ওই মামলায় সঠিক স্বাক্ষীর অভাবে তারা যাবজ্জীবন সাজার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে। এতে আ’লীগের একটি পরিবার বিনা অপরাধে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। নিন্ম আদালতের এ রায়ের পুনঃবিবেচনার জন্য উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করা হবে বলে জানান বক্তারা।
হত্যার ঘটনায় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের নির্দোষ দাবি করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দত্তপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম কামাল উদ্দিন বলেন, আজিজ মেম্বার ও তার ছেলেরা ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো না। স্বাক্ষীর অভাবে তাদের সাজা হয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে রায় বিবেচনা করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৩ জানুয়ারি) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম আলোচিত আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলার রায় প্রদান করেন।
এতে দত্তপাড়া ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুল আজিজ মেম্বার ও তার ৫ পুত্র সবুজ, বিল্লাল হোসেন বিপ্লব, ইব্রাহিম, মানিক, ইসমাইল হোসেন এবং সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মেম্বারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয়।
আজিজের ছেলে ইসমাইল হোসেন ওই ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য। রায় প্রদানের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার সাথে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমও আদালতে উপস্থিত হন। পরে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, দণ্ডবিধি ৩০২/১০৯ ধারায় অপরাধী সাবস্ত করে ৭ জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এ মামলায় ১১ আসামি খালাস পেয়েছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আজিজের এক ছেলে বিপ্লব সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা। বিগত দিনে তাদের একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ছিলো। বিপ্লবের নেতৃত্বে বাহিনীটি নিয়ন্ত্রিত হতো।
এছাড়া নিহত আনোয়ার হোসেন দত্তপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তার একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ছিলো। অন্তত ১০-১২ টি মামলার আসামী ছিলো আনোয়ার। তার ভাই নূর হোসেন শামীম ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। আনোয়ারের মৃত্যুর পর সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নেয় শামীম। তখন দফায় দফায় আজিজ বাহিনীর সাথে শামীম বাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতো।
আনোয়ার হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৪ জুন বিকেলে আনোয়ার হোসেন দত্তপাড়ার প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন শামীমের নির্বাচনী অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় ঘটনার সাথে জড়িতরা নির্বাচনী অফিসে হামলা করে আনোয়ারের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরদিন তার বড়ভাই মো. আশেক ই এলাহী ওরফে বাবুল বাদি হয়ে দত্তপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল আজিজ মেম্বারকে প্রধান আসামী করে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের নামে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি নোয়াখালীর সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক সুভাষ চন্দ্র দাস তদন্ত করে অভিযুক্ত ১৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে হত্যা মামলাটি সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে। চার দফা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। সর্বশেষ নোয়াখালীর সিআইডিকে মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৪ জনের স্বাক্ষী গ্রহণের পর (৩ জানুয়ারি) আদালত সাত জনের যাবজ্জীবন রায় ও ১১ জন আসামীকে খালাস দেন।
Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com