• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বুধবার | ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | সন্ধ্যা ৬:৩৭
  • আর্কাইভ

চন্দ্রগঞ্জে যত্রতত্র পশু জবাই : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংশ বিক্রি

৮:১৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসে ২৪, ২০১৭

 

লক্ষীপুর (চন্দ্রগঞ্জ) সংবাদদাতা :

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকার যেখানে সেখানে অবৈধভাবে পশু জবাই করা হচ্ছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের  হাটবাজারগুলোতে গবাদিপশু জবাই এবং মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারি বিধি নিষেধ যেন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত।

কসাইখানা থাকার পরেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগাক্রান্ত গরু, মহিষ, ছাগল জবাই করা হচ্ছে।কোন কোন সময় সড়কের উপরও জবাই করা হয় এসব গবাদি পশু, আর এই অবস্থায় গবাদিপশু জবাই করে নির্ধিদায় বিক্রি করা হয় ক্রেতাদের কাছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি হুমকিতে পড়তে হচ্ছে জনস্বাস্থ্য।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের ২/১ জন কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজেসে এবং তাদের ম্যানেজ করেই কসাই ও মাংস বিক্রেতারা হরহামেশাই এ অনিয়ম করে যাচ্ছে।

অথচ সরকারি বিধান মতে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন পশু জবাই করতে হলে সেটি জবাই করার আগে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত কিনা এবং মাংস স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা একজন সরকারি পশু ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পরীক্ষা করা পশু জবাই ও খাওয়ার উপযোগী বিবেচিত হলে তবেই সেটি অনুমোদিত কোন কসাইখানায় নিয়ে জবাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়ম মোতাবেক মাংসের উপর সীল মেরে তা বাজারে বিক্রির অনুমতি প্রধান করবে, কিন্তু  উপজেলার কোথাও এর কোনটিই মানা হচ্ছে না।

এ ছাড়া বাছুর, চাষাবাদযোগ্য বলদ ও দুধেল গাভী জবাই না করার নির্দেশও উপেক্ষা করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, স্থানীয়দের মতে,এ সব দেখার কাজে নিয়োজিতরা নিয়মিত মাংস বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলায় সবই বিধিবাম। আর তাই এরা গবাদি পশু জবাইয়ের আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকাই পালন করে থাকে। সরকারি বিধি মোতাবেক যারা মাংস বিক্রয় করবে তাদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সনদপত্র নেওয়ার কথা থাকলেও দেখা গেছে তাদের ক্ষেত্রে সব নিয়মেই অধরা।

উপজেলার মান্দারী বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার, জকসিন বাজার, দত্তপাড়া বাজার, হাজিরপাড়া বাজার, সহ বেশ কয়েকটি হাটবাজারের মাংসের দোকানে সরজমিনে গিয়ে বিক্রেতাদের সাথে স্বাস্থ্যসনদ সর্ম্পকে কথা বলে জানা যায়,কোন মাংস বিক্রেতাই ‘স্বাস্থ্য সনদ’ নেওয়ার বিষয়ে জ্ঞাত নয়। এমনকি জবাইয়ের আগে পশু পরীক্ষা করিয়ে নেয়ার বিষয়টিও অনেকেরই অজানা। গবাদি পশু জবাই এবং মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে জীবানুমুক্ত করা, খোলা মাংস বিক্রি না করা এবং মাংসের দোকানে স্যানিটেশনের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা থাকলেও উপজেলার হাটবাজারগুলোর কোন মাংস দোকানেই তা মানা হচ্ছেনা।

বরং সকালে জবাই করা পশুর মাংস সারাদিন উন্মুক্তস্থানে নোংরা পরিবেশে ঝুলিয়ে রেখে বিক্রি করা হয় রাত পর্যন্ত। সরকারি নিয়মমাফিক পশু জবাই হচ্ছে কিনা, জবাইকৃত পশুটি খাওয়ার উপযোগী কিনা তা তদারকি করার জন্য প্রতিটি এলাকায় একজন করে পশু ডাক্তার, একজন করে স্যানিটারী ইন্সপেক্টর এবং চামড়ার মান দেখার জন্য একজন অভিজ্ঞ কিউরেটর নিয়োগের নিয়ম থাকলেও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কোথাও এদের দেখা পাওয়া যায়না।

সরকারি নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে দুইদিন সোম ও বৃহস্পতিবার মাংস বিহীন দিবস ঘোষিত হলেও চন্দ্রগঞ্জ সর্বত্রই কসাইরা প্রতিদিন গবাদিপশু জবাই করছে। চন্দ্রগঞ্জ যত্রতত্র রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা লাইসেন্স বিহীন মাংসের দোকান গুলোসহ , মান্দারী বাজারে অসাধু মাংস ব্যবসায়ীরা গরুর মাংসের সাথে মহিষের মাংস ও টাটকা মাংসের সাথে বাসি মাংস মিশিয়ে এবং বকরী কিংবা পাঠার মাংসকে খাসীর মাংস হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেলেও এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কোন তদারকি নাই বল্লেই চলে।

এক্ষেত্রে  প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে মাংস ক্রেতারা, পশু জবাই ও মাংস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কাগজে কলমে থাকা আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় উপজেলার যত্রতত্র, রোগাক্রান্ত ও স্বাস্থ্যহীন গবাদিপশু গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি নির্বিঘেœ জবাই করা হচ্ছে, ফলে শুধুমাত্র পরিবেশ বিপর্যয় নয় মানুষের শরীরেও রোগব্যাধি বেড়েই চলেছে।

এ ব্যাপারে দত্তপাড়া বাজারের মাংস বিক্রেতা একজনের  সাথে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাংস বিক্রয়ের তার লাইসেন্স রয়েছে। তিনি সহ কয়েক জন মাংস বিক্রেতা চন্দ্রগঞ্জ কসাইখানায় সুস্থ্য-সবল গবাদি পশু জবাই ও মাংস বিক্রয় করেন।

মান্দারী বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান আমি প্রশাসনের দৃষ্ঠি আকর্ষন করছি, যেন  পশু জবাই করার জন্য একটি সুরিক্ষিত জায়গা ব্যবস্থা করে দেয়, আর আমরা বনিক সমিতির পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার আমরা সব করবো, তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশাবাদী ।

লক্ষীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান  জানান, এসব বিষয়ে অনেক মৌখিক অভিযোগ আমিও শুনেছি, এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com