• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • বৃহস্পতিবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সকাল ৯:৫৯
  • আর্কাইভ

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি : রামগতির চর আলগীতে হতদরিদ্রের তালিকা তৈরীতে অনিয়ম

৩:৫২ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা হালনাগাদে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী সুবিধাভোগীদের তালিকা হালনাগাদে এ অনিয়ম করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ইউপি চেয়ারম্যান লিটন দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে ইউনিয়নের দুই হাজার ৩২০টি হতদরিদ্রের কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৬৫২ টির নামই তিনি পরিবর্তন করে ফেলেন। হালনাগাদকৃত ওই তালিকা অনুযায়ী সোমবার ডিলাররা চাল বিতরণ শুরু করলে পূর্বের কার্ডধারী হতদরিদ্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তা বন্ধ হয়ে যায়।

এতে করে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নটিতে যে কোনো মুহূর্তে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের গৃহীত এ পদক্ষেপ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুর্যোগকালীন সময়ে নদীভাঙা হতদরিদ্র লোকজনের ১০ টাকার কার্ড বহাল রাখতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি বছরে পাঁচ মাস (মার্চ-এপ্রিল, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও নভেম্বর) ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছেন। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের দুই হাজার ৩২০ জন হতদরিদ্র গত তিন বছর ধরে এ সুবিধা পেয়ে আসছেন। কিন্তু চলতি বছর এ তালিকা হালনাগাদের নামে ইউপি চেয়ারম্যান লিটন চৌধুরী ব্যাপক অনিয়ম করেন।

তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি নিজ অনুসারীদের মাধ্যমে কার্ডধারী হতদরিদ্রদের কাছে পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকা করে দাবি করেন। কিন্তু দাবিকৃত ওই টাকা না দেয়ায় তিনি দুই হাজার ৩২০টি হতদরিদ্রের কার্ডের মধ্যে এক হাজার ৬৫২টি কার্ডেরই নাম পরিবর্তন করে ফেলেন। তাদের নামের স্থলে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা নিয়ে তাদের নাম তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত করেন।

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েকবার লিখিত অভিযোগও করেছেন। অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকায় ইউএনও’র পরামর্শে ইউনিয়নটিতে চলতি মার্চ মাসের চাল বিতরণ বন্ধ থাকে।

কিন্তু এরই মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ডিলাররা হঠাৎ করে সোমবার সকালে নতুন তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণ শুরু করে। এ সময় পূর্বের কার্ডধারী হতদরিদ্ররা চাল আনতে গিয়ে চাল না পেয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে চাল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়।

মো. বাবুল, মিল্লাত হোসেন ও জমির উদ্দিন নামে কয়েকজন হতদরিদ্রের অভিযোগ, চেয়ারম্যান তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নতুন করে কার্ড করে দিয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তারা চেয়ারম্যানের এই অনিয়মের বিচার দাবি করেন।

চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আল-আমিন জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য তার ওয়ার্ডের ৩৮০ জন হতদরিদ্রের নাম তালিকাভুক্ত ছিলো। যাদের বেশির ভাগই নদীভাঙা দুস্থ ও অসহায় পরিবারের। কিন্তু তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান টাকার জন্য ৩৫০ জনের নামই পরিবর্তন করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করেছেন। নতুন অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে সরকারি চারকুরিজীবি, উচ্চবেতনের বেসরকারি চাকুরিজীবি এবং অনেক বিত্তবান ব্যক্তিও রয়েছেন বলে তিনি জানান।

চর আলগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আলী মনু জানান, নীতিমাল অনুযায়ী মৃত, সরকারের অন্য কোনো সুবিধাভোগী বা কোনো স্বচ্ছল ব্যক্তি ভুলক্রমে তালিকাভুক্ত হয়ে থাকলে সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন নাম তালিকাভুক্ত করার সুযোগ আছে। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রকৃত হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে টাকা নিয়ে নতুন ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করেছেন। তার এসব দুর্নীতির কারণে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের জন্য চর আলগী ইউনিয়নে চারজন ডিলার রয়েছেন। তারা অনেক আগেই খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে নিয়েছেন। কিন্তু তালিকা সংশোধন নিয়ে জটিলতা থাকায় এতো দিন চাল বিতরণ বন্ধ ছিলো। সোমবার চাল বিতরণ শুরু হলে পূর্বের কার্ডধারীরা হট্টগোল শুরু করে। যে কারণে ডিলারদেরকে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন জানান, খবর পেয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তালিকা হালনাগাদে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি-না তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com