মঙ্গলবার | ১৯শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | সকাল ৯:২০

কমলনগরে শিক্ষাবোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে কেন্দ্র সচিব

প্রবাহ রিপোর্ট : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শিক্ষাবোর্ডের নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। নীতিমালা অনুযায়ী এখানে অযোগ্য ব্যক্তি কেন্দ্র সচিব ও সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নিয়ম বহির্ভূতভাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে হলরুম পরিদর্শক সহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি- নিয়ম উপেক্ষা করে কেন্দ্রে দায়িত্বশীলদের এমন বিন্যাসের মধ্য দিয়ে মূলতঃ শিক্ষার্থীদেরকে উত্তরপত্রে সহযোগীতা দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কতিপয় অসাধু ব্যক্তির সমন্বয়ে এমন কুটচক্র নেপথ্যে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে।

সরেজমিনে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও বিষয়টি সম্পর্কে কমলনগর উপজেলা পরীক্ষা কমিটি অবগত নয় বলে জানা যায়।

তবে মন গড়া নিয়মে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতিতে উক্ত উপজেলায় চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মান যাচাইয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে। একই সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে বিপদগামী হয়ে উঠার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ পরিস্থিতিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুমিল্লা এর স্মারক নং পরী/মাধ্য/জেএসসি/২০১৯/৪৪৩(৩০৩) এর ৩ এর (চ) ধারার আলোকে জানা যায়, কোন ভেন্যুতে যেসব স্কুলের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সেসব স্কুল ছাড়া অন্য কোন স্কুলের একজন প্রধান শিক্ষককে ভেন্যুর সহকারী কেন্দ্র সচিব নিয়োগ করতে হবে।

একই পত্রের ৩৩ এর (ক) ধারার বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রণালয়/শিক্ষাবোর্ড/কোন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরীক্ষা পরিচালানায় দায়িত্ব অবহেলায় অভিযুক্ত কোন শিক্ষক কেন্দ্র সচিব/সহকারী কেন্দ্র সচিব/হল সুপার/পরীক্ষা কমিটির সদস্য হতে পারবেনা।

শিক্ষাবোর্ডের এসব নীতিমালা উপেক্ষা করে কমলনগর উপজেলার চর লরেঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুককে কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ, বিগত ২০১৭ইং সালে ওই শিক্ষক তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এর ভেন্যু কেন্দ্রের সহকারী কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অভিযুক্ত হন। ওই সময় কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ০৫.৪২.৫১৩৩.০০০.০১০.০০২.২০১৭-৯৫৮ নং স্মারকে নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে উক্ত শিক্ষক ওমর ফারুককে সহকারী কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

তা সত্বেও শিক্ষক ওমর ফারুক চলতি বছর কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব প্রাপ্ত হওয়ায় শিক্ষাবোর্ডের নীতিমালা লংঘণ হয়েছে। এছাড়া ওই কেন্দ্রের ভেন্যু কেন্দ্র চর জাঙ্গালিয়া কে. হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চর লরেঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিলেও একই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে ভেন্যু কেন্দ্রটিতে অবস্থান করছেন।

শিক্ষাবোর্ডের নীতিমালা লংঘণ কমলনগর উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের প্রাক প্রস্তুতির এসব গৃহিত সিদ্ধান্তের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বিগত ৬-১০-১৯ইং তারিখে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে উক্ত ভেন্যু কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এ সত্যতা মিলেছে। এখানে বেলাল হোসেন নামে চর লরেঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক কেন্দ্র সচিবের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। শুধু তিনি নন, একই ভাবে কেন্দ্র গুলোতে বোর্ডের নিয়ম ভঙ্গ করে একাধিক শিক্ষক কেন্দ্রে অবৈধ অবস্থান করতে দেখা গেছে।

ভেন্যু কেন্দ্র চর জাঙ্গালিয়া কে. হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে দায়িত্বরত কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলামের কাছে কেন্দ্রে শিক্ষকদের অবৈধ অবস্থানের বিষয়সহ প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমলনগর উপজেলার সচেতন অভিভাক ও এলাকাবাসী জানান, নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদেরকে কেন্দ্রে সহজে উত্তরপত্র সরবরাহ উদ্দেশ্যে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দায়িত্বের অযুহাতে কেন্দ্রে অবৈধ ভাবে অবস্থান করছেন।

জানার জন্য অভিযুক্ত কেন্দ্র সচিব ওমর ফারুক এর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে উপজেলা পরীক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এফ এস আব্দুল ওয়াজেদ তালুকদারের কাছে এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে দায়হীন একজন নিরীহ সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করেন। এসকল বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাই নিয়ন্ত্রক বলে তিনি জানান। তবে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি পরীক্ষা গ্রহণে এসব অনিয়মের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন এবং এসব বিষয় ইতোপূর্বে তার জানা ছিলোনা বলে তিনি জানান।

বক্তব্য জানার জন্য কমলনগর উপজেলা পরীক্ষা কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেনের কার্যালয়ে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জেএসসি এবং জেডিসি পরীক্ষায় মোট ৩২৪১ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে ১২৯৮ জন ছাত্র পরীক্ষার্থী এবং ১৯৪৩ জন ছাত্রী পরীক্ষার্থী রয়েছে। এসব পরীক্ষার্থী ৪টি কেন্দ্র ১০টি ভেন্যু কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এরমধ্যে তিন কেন্দ্রে জেএসসি এবং এক কেন্দ্রে জেডিসি (মাদ্রসা) শিক্ষার্থী রয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মোহাম্মদ মাহমুদুল হক

প্রধান কার্যালয়ঃ

এ.আর. ম্যানশন
91/1, রেহান উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক
লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, লক্ষ্মীপুর।
মোবাইলঃ 01711113943

ই-মেইলঃ dailykalerprobaho@gmail.com

Copyright © 2016 All rights reserved www.kalerprobaho.com

Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com