• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | শীতকাল | রাত ১:১৩
  • আর্কাইভ

কমলনগরে করোনা আক্রান্ত তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ফুল ও কোরআন হাতে

১০:০০ অপরাহ্ণ, মে ০৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক : মরণব্যাধী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন আতঙ্কিত। সেই আতঙ্ককে পরাজিত করে অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন কমলনগরের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারী ও বালকসহ তিনজন।

সুস্থ হয়ে হসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফেরার সময় উপহার হিসেবে পেয়েছেন পবিত্র কোরান শরীফ ও ফুল। সোমবার (৪ মে) বিকেলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাত তালি দিয়ে অভিনন্দন জানান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সুস্থ হওয়া একজনের নাম মো. ইব্রাহিম (৫৫), তিনি কমলনগর উপজেলার চরফলকন এলাকার বাসিন্দা। আরেকজন একই উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের মুন্সির হাট এলাকার নয়ন আক্তার (২৭)। অন্যজন ১১ বছর বয়সী এক বালক। তার নাম মো. রিহান। স্থানীয় একটি মাদ্রাসাতে পড়ালেখা করে সে।

গত ১৬ এপ্রিল চট্রগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষায় তাদের শরীরে করোনা সংক্রমণের বিষয়টি শনাক্ত হয়। দীর্ঘ ১৯ দিন ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে করোনাকে হার মানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (৪ মে) বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তাদের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তারা কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসায় তাঁরা করোনামুক্ত বলে নিশ্চিত হয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ উপজেলাতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো পাঁচজন।

আক্রান্ত ওই তিনজন করোনা থেকে সুস্থ্য হওয়ার পর সোমবার বিকলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বিদায় জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবদুর গাফফার, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেবারক হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেজাউল করিম রাজীব সহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

জেলা সিভিল সার্জন তাদেরকে উপহার হিসেবে পবিত্র কোরআন শরীফ তুলে দেন। পরে তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়িতে করে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের চলাফেলা করার পরামর্শ দেয় চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, ১৬ এপ্রিল রাতে তাদের ফলাফল আসার পর আক্রান্ত ওই তিনজন প্রথমে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২৩ এপ্রিল দুপুরে তাদেরকে উপজেলার হাজিরহাট উপকূল সরকারী কলেজের আইসোলেশনে আনা হয়।

সেখানে চিকিৎসা এবং রোগীদের থাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই আইসোলেশন কেন্দ্রের স্থিরচিত্র দিয়ে ব্যাপক সমোলোচনা করা হয়। পরদিন তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার (৪ মে) পর্যন্ত তারা সেখানে চিকিৎসা নেন। এর আগে রবিবার রাতে তাদের শরীরে করোনাভাইরাস নেগেটিভ থাকার রিপোর্ট আসে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের বলেন, আক্রান্ত এ তিন জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে তাদের পরিবারকে লকডাউন করা হয়। একই সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তবে পরিবারের অন্য কারো শরীরে করোনা শনাক্ত না হওয়ায় লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উপজেলাতে ওই তিন জন ব্যতীত একজন চিকিৎসকসহ আরও দুইজন করোনা পজিটিভ রোগী রয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে শারীরিক দিক দিয়ে তারা ভালোর দিকে রয়েছে।

এর আগে জেলার রামগঞ্জ ও রামগতিতে আরও দুইজন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ওই দুইজন কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলাতে ৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের রবিবার রাতের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৪৪ জন। এদের মধ্যে একজন শনাক্ত হওয়ার আগেই মৃত্যু বরণ করে। অন্য একজন ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরে পালিয়ে আসে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com