• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার | ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | রাত ১০:২৭
  • আর্কাইভ

এ যেন অন্য নোয়াখালী আর অন্য ছাত্রলীগ

১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, নভে ০৩, ২০১৯

প্রবাহ রিপোর্ট : ছাত্র-ছাত্রী দেখামাত্রই ছুটে আসে ছাত্রলীগ কর্মীরা। প্রশ্ন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী কিনা। যদি পরীক্ষার্থী হয় তাহলে তথ্যসেবা কেন্দ্রে বসার অনুরোধ করেন। তারপর কোন যাত্রীবাহি বাহন আসলে নিজ দায়িত্বে তুলে দেন সে বাহনে। গাড়ি চালক ও হেলপারদের প্রতি নির্দেশনা থাকে সযত্নে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতে।

শনিবার (২ অক্টোবর) দিনব্যাপী নোয়াখালী জেলার বিভিন্নস্থানে এরকম দৃশ্য দেখা গেছে। আর সড়কে যেন যানজট না লাগে সেজন্য কাজ করেছে কয়েকশ’ স্বেচ্ছাসেবী। রাস্তার দু’পাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে তথ্যসেবা কেন্দ্র।

নোয়াখালী জেলার চৌরাস্তা থেকে সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এ রকম দৃশ্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। আর এতে অভিভূত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

শুধু তাই নয় এদের নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার সকল দ্বায়-দায়িত্ব মাথায় নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা। স্থানীয় উপজেলা চেয়াম্যানের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী বাস। এছাড়া দূর-দুরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বাসস্থান এবং খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পান করার জন্য পরিবেশন করা হয়েছে বোতলজাত পানি। আর লিখার জন্য কলমও পেয়েছে তারা।

কয়েকজন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা। কিন্তু ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত বা খাবারের বিষয়ে এ রকম সুবিধা পাননি। প্রায় সব জায়গায় যান বাহনের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে। বেশি দামে কিনে খেতে হয়েছে খাবার। এছাড়া যাতাযাতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কিন্তু নোয়াখালীতে এসে তার উল্টোটা দেখতে পেয়েছেন তারা। পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা থেকে ফেরত যাওয়া পর্যন্ত সেচ্ছাসেবী লোকেরা তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন।


উল্লেখ্য, শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নোয়াখালীতে এসেছেন।

জানা গেছে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিনা খরচে আবাসন, খাওয়া, কেন্দ্রে যাতায়াত, প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ সব ধরণের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, নোয়াখালী পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ সরকারি- বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

১ হাজার ২০০ আসনের বিপরীতে শুক্র ও শনিবার ৬৯টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষা দিয়েছেন ৬৮ হাজার ৭৬০ পরীক্ষার্থী। ১ ও ২ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা হলেও মূলত ৩১ অক্টোবর রাত থেকেই নোয়াখালীতে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অবস্থান নেন।

পৌরসভার পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন, পরিবহন ও নিরাপত্তাসহ রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com