• ঢাকা,বাংলাদেশ
  • রবিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | হেমন্তকাল | সকাল ৯:০১
  • আর্কাইভ

আতঙ্কের ভোট শেষ হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে

৮:৪০ অপরাহ্ণ, নভে ১১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোটের আগে ছিলো আতঙ্ক, ছিলো টান টান উত্তেজনা। কিন্ত ভোটের দিনের পরিবেশ ছিলো সম্পূর্ণ শান্ত। ভোটারদের মধ্যে থাকা চাপা আতঙ্ক কেটে গিয়ে পরিণত হয়েছে উৎসবে।
ভোট চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রে কোন ধরণের প্রভাব বিস্তার লক্ষ্য করা যায়নি। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ছিলো নারী এবং পুরুষ ভোটারের উপচে পড়া ভীড়। আরআইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলো কঠোর অবস্থানে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সদস্যরা টহলে ছিলো।
এমন চিত্র ছিলো লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা এবং চরলরেন্স ইউনিয়নে।
বেলাল এবং রহমান নামে দুই ব্যক্তি চরকাদিরার ফজুমিয়ারহাটে এসেছে নির্বাচন দেখতে। তাদের বাড়ি পাশ্ববর্তী তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে। বলেন, সকালে এসে ভোটের পারিস্থিতি দেখে গেছি, দুপুরে বাড়িতে খেতে গিয়ে বিকেলে আবার এসেছি। কেন ভোট দেখতে এসেছেন- এমন প্রশ্নে বেলাল বলেন, বিগত ১৫ বছরেও এমন নির্বাচন দেখিনি। কয়েকদিন আগেও আমাদের ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আজকের ভোটের মতো এমন শান্তিপূর্ণ ভোট আর হয়নি। তাই নিজেদের মধ্যে একটা উৎসবের আমেজ কাজ করেছে। ইউনিয়নের ভোটার না হয়েও অনেকে কাজ বন্ধ রেখে ভোট দেখতে এসেছে।
চরকাদিরা ইউনিয়নের শামছুন্নাহার নামে এক বৃদ্ধ নারী বলেন, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি। এতে খুব ভালো লাগছে। কদিন আগ থেকে সবাই বলতেছে নিজের ভোট নাকি দিতে পারবো না।
মোখলেছুর রহমান নামে ওই ইউনিয়নের এক ভোটার বলেন, গত কয়েকদিন থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোটের আগের রাতে ইউনিয়নের চর বসু এলাকা থেকে অস্ত্রসহ দুই আটক হয়েছে। এতে আমাদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে চাপা আতঙ্ক ছিলো। কিন্তু ভোটের দিন পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক ছিলো।
ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বহিরাগতরা কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
চেয়ারম্যান বা সদস্য পদপ্রার্থীর কোন লোকজন কেন্দ্রের ভেতর ঝামেলা বা প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পায়নি।
চরমার্টিন ইউনিয়নের ভোটার সানা উল্যাহ বলেন, নির্বিঘ্নে আমরা ভোট প্রদান করতে পেরেছি।
নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের কয়েকজন ভোটার বলেন, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ঝামেলাহীনভাবে ভোট প্রদান করা গেলেও কোন কোন কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদের ব্যালট পেপার টানাটানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে অনেকে তাদের পছন্দের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি।
জানা গেছে, ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের কারণ ছিলো ভোটের আগে নৌকার প্রার্থীর লোকজনের প্রভাব বিস্তার, একে অন্যের বিরুদ্ধে উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান। সোমবার রাতে চরকাদিরাতে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর এবং উষ্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে নৌকার সমর্থকদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার রাতে ওই ইউনিয়নের চরবসু এলাকা থেকে অস্ত্রসহ দুইজন বহিরাগত সন্ত্রাসী আটক হয়েছে।
এছাড়া মঙ্গলবার রাতে চরলরেন্স এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই যুবলীগ নেতা আটক হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তখন ভোটারদের অভিযোগ ছিলো, প্রভাবশালী প্রার্থীরা ভাড়াকরা অস্ত্রারী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দিন প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পুলিশ ডঃ এএইচএম কামরুজ্জামান কালের প্রবাহকে বলেন, নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো ভালো। কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধার এবং আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দুটি অস্ত্রসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে যেন না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিলো।
উল্লেখ্য : দ্বিতীয় ধাপে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা, চর লরেন্স ও চরমার্টিন এবং রামগতি উপজেলার চর গাজীতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ



Design & Developed by Md Abdur Rashid, Mobile: 01720541362, Email:arashid882003@gmail.com